Durgapur NIA Raid: সোমবার সকালে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র অভিযানে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। দুর্গাপুরের মেন গেট সংলগ্ন নিউ স্টিল পার্ক এলাকার একটি বাড়িতে হানা দেন এনআইএ-র আধিকারিকরা। ছয় সদস্যের তদন্তকারী দলে একজন মহিলা আধিকারিকও ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ছিল রাজ্য পুলিশের বড় বাহিনী। প্রায় তিন ঘণ্টার তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের পর গোলাম জামা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।

এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোলাম জামার বাড়ি মূলত বিহারে হলেও তিনি দীর্ঘদিন ছত্তিশগড়ে কর্মসূত্রে বসবাস করতেন। প্রায় তিন বছর আগে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে দুর্গাপুরে চলে আসেন। নিউ স্টিল পার্ক এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে ছত্তিশগড়ে একটি টায়ার কারখানায় কাজ করতেন। পাশাপাশি তাঁর বিদেশে যাতায়াতও ছিল বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।
তদন্তে উঠে এসেছে, ছত্তিশগড়ে সংঘটিত একটি নাশকতামূলক ঘটনার সঙ্গে গোলাম জামার নাম জড়িয়েছিল। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে শ্রমিক পাঠানোর নামে মানবপাচার চক্রের সঙ্গেও তাঁর যোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে এনআইএ। তদন্তকারীদের দাবি, বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়ো নথি ব্যবহার করে মানুষ পাচারের একটি চক্রের সঙ্গে তিনি যুক্ত থাকতে পারেন। সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সোমবার সকালে অভিযান চালিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে গোলাম জামাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এনআইএ আধিকারিকরা। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাড়ি থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ডিজিটাল তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেগুলি খতিয়ে দেখে তদন্তের পরবর্তী ধাপ এগোবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে নানা তথ্য। প্রতিবেশী সামিম আলম জানান, গোলামের স্ত্রী তাঁদের বলেছিলেন, তিনি ছয় মাস মালয়েশিয়ায় ছিলেন। আগে টায়ারের দোকানে কাজ করতেন বলেও জানা গিয়েছিল। তবে এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর বিশেষ মেলামেশা ছিল না। গোলামের বাড়ি ছত্তিশগড়ে বলেই তাঁরা শুনেছিলেন। এছাড়া অন্ডালে তাঁর এক আত্মীয়ের টায়ার সারাইয়ের দোকান রয়েছে বলেও স্থানীয়দের দাবি।
{{/usCountry}}স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে নানা তথ্য। প্রতিবেশী সামিম আলম জানান, গোলামের স্ত্রী তাঁদের বলেছিলেন, তিনি ছয় মাস মালয়েশিয়ায় ছিলেন। আগে টায়ারের দোকানে কাজ করতেন বলেও জানা গিয়েছিল। তবে এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর বিশেষ মেলামেশা ছিল না। গোলামের বাড়ি ছত্তিশগড়ে বলেই তাঁরা শুনেছিলেন। এছাড়া অন্ডালে তাঁর এক আত্মীয়ের টায়ার সারাইয়ের দোকান রয়েছে বলেও স্থানীয়দের দাবি।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা সালাউদ্দিন আনসারির দাবি, গোলাম জামার বিরুদ্ধে ছত্তিশগড়ে ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরির অভিযোগের তদন্ত চলছিল। তাঁর কথায়, প্রায় ছয় মাস আগে গোলাম নিজের মোবাইল নম্বর বদলে ফেলেন এবং কিছুদিন এলাকা ছেড়েও ছিলেন। যদিও এই দাবিগুলির স্বাধীনভাবে সরকারি বা তদন্তকারী সংস্থার তরফে এখনও কোনও নিশ্চিতকরণ মেলেনি।
তদন্তকারীদের অনুমান, ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরি করে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর আড়ালে মানবপাচারের একটি বড় নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকতে পারে। সেই চক্রের সঙ্গে গোলাম জামার কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁর বিদেশ সফরের উদ্দেশ্য, আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছে এনআইএ।
এই ঘটনায় দুর্গাপুর জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এনআইএ-র তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের খোঁজে তদন্ত আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।