নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর এখনও বহু মানুষের খোঁজ মিলছে না। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, সেখানে নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৪০০। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বহু ভারতীয় পর্যটক। নেপালের বিপর্যয়ের জেরে নিখোঁজ হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের একাধিক বাসিন্দাও। এই আবহে জানা গেল, দুর্গাপুর থেকে মানস সরোবর ভ্রমণে যাওয়া একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে তাঁদের পরিবারের। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন।
জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের বামুনাড়ার তপবন সিটির বাসিন্দা মৌসুমী গঙ্গোপাধ্যায় (৫৩) ও তাঁর স্বামী অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় নেপালে গিয়েছিলেন মানস সরোবর ভ্রমণে। চলতি মাসের ২১ তারিখ একটি সংস্থার সঙ্গে তাঁরা যাত্রা শুরু করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ভ্রমণ শেষ করে তাঁদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়ের খবর সামনে আসার পর থেকেই তাঁদের সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ফোনে যোগাযোগ না হওয়ায় প্রথমে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। পরে আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীদের মধ্যেও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ জানেন না এই মুহূর্তে ওই দম্পতি ঠিক কোথায় রয়েছেন বা তাঁরা নিরাপদে আছেন কি না। পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও তাঁদের দ্রুত নিরাপদে বাড়ি ফেরার জন্য প্রার্থনা করছেন।
তবে শুধু মৌসুমী ও অরিন্দমই নন, নেপাল বিপর্যয়ের পর দুর্গাপুরের আরও কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। অম্বুজা টাউনশিপের বাসিন্দা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় (৬২) এবং তাঁর স্ত্রী সংঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় (৫৯)-এরও কোনও খোঁজ মিলছে না। তাঁরাও নেপালেই ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের পরিবারও আতঙ্কে রয়েছেন।
এছাড়া দুর্গাপুরের শ্রীনগর পল্লির বাসিন্দা সুভাষ চন্দ্র ঘোষ (৬১)-এর সঙ্গেও বিপর্যয়ের পর থেকে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। একের পর এক একই ধরনের খবর সামনে আসায় দুর্গাপুরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পরিবার ও প্রতিবেশীরা প্রশাসনের তরফে দ্রুত নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
{{/usCountry}}এছাড়া দুর্গাপুরের শ্রীনগর পল্লির বাসিন্দা সুভাষ চন্দ্র ঘোষ (৬১)-এর সঙ্গেও বিপর্যয়ের পর থেকে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। একের পর এক একই ধরনের খবর সামনে আসায় দুর্গাপুরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পরিবার ও প্রতিবেশীরা প্রশাসনের তরফে দ্রুত নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
{{/usCountry}}স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তাঁরা কোনও নিশ্চিত খবর পাননি। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মেসেজ পাঠানো এবং ফোনে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁর আশা, তাঁরা হয়তো কোথাও আটকে রয়েছেন এবং নিরাপদেই রয়েছেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পুলিশ স্থানীয় এলাকায় এসেছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। যদিও পুলিশের কাছেও তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত তথ্য নেই।
নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান, ধস এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার কারণে দুর্গত এলাকাগুলিতে আটকে থাকা মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেক জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য যোগাযোগ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। ফলে পর্যটক এবং তাঁদের পরিবারের মধ্যে তথ্যের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নিখোঁজ ভারতীয় এবং বাংলার পর্যটকদের দ্রুত সন্ধান পাওয়াই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। প্রশাসনের তরফে উদ্ধার ও যোগাযোগের চেষ্টা জারি রয়েছে। দুর্গাপুরের নিখোঁজ বাসিন্দাদের পরিবারও আশা করছেন, খুব দ্রুত কোনও সুখবর তাঁদের কাছে পৌঁছবে এবং প্রিয়জনেরা সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরবেন।