Durgashree Allowance Fact Check: তৃণমূল সরকার গঠন করলে নাকি দুর্গাশ্রী নামের প্রকল্পে রাজ্যের প্রত্যেক মহিলাকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এমনই দাবি করে সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একধিক পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। তবে এই পোস্ট আদতে ভুয়ো। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে নির্বাচনী ইস্তাহারে এমন কোনও দাবি করা হয়নি। এই আবহে ভাইরাল এই পোস্টে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

উল্লেখ্য, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর কোনো ক্ষমতাসীন সরকার নতুন কোনো জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বা আর্থিক অনুদান ঘোষণা করতে পারে না। রাজ্যে ১৫ মার্চ নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হয়। এই আবহে ১৬ মার্চ থেকেই আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়। এর আগে পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাশ্রী নামে কোনও প্রকল্পের ঘোষণাই করেননি। এবং ১৬ মার্চের পর থেকেও এই ধরনের কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে নিজেদের সংকল্পপত্রে বিজেপি ঘোষণা করে, তারা ক্ষমতায় এলে পরে মহিলাদের তিন হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা দেওয়া হবে। এই আবহে ভোটের আগেই অন্নপূর্ণা সম্মাননিধির ফর্ম ফিলআপ পর্যন্ত করাতে শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। এনিয়ে কমিশনের কাছে অভিযোগ দায়ের করে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, বিজেপি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে।
উল্লেখ্য, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কণ্যাশ্রীর মতো একাধিক জনমুখী প্রকল্পের কারণে পশ্চিমবঙ্গের মহিলা ভোটাররা অনেকটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ঝুঁকে থাকেন বলে মনে করা হয়। এদিকে মমতার এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার স্কিম অন্যান্য রাজ্যে আমদানি করে সেখানে সুফল পেয়েছে বিজেপি বা অন্যান্য শাসকদলও। মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যে মহিলা ভোটারদের নিজেদের দিকে টেনে ক্ষমতা ধরে রাখতে সফল হয়েছে গেরুয়া শিবির। আবার পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ডে এই একই কাজ করে ক্ষমতায় টিকে থেকেছেন হেমন্ত সোরেন। এই আবহে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে ভাতা বাড়িয়ে বাংলার মহিলা ভোটারদের মন জয় করতে চেয়েছে বিজেপি। এবং এবারের ভোটে তৃণমূলকে হারাতে যে যুব সমাজ এবং মহিলা ভোটাররাই যে তুরুপের তাস হবে, তা জানে বিজেপি। তাই তারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বদলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এদিকে তৃণমূল আবার দাবি করছে, দিল্লি, বিহার, মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে বিজেপি নাকি মহিলাদের প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকারে এসে ভাতা দিচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির দেখানো 'অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের লোভের ফাঁদে' পা দিতে বারণ করছে ঘাসফুল শিবির।