...
...
Next Story

Sujit Bose Arrest Case: ইডি-র জালে সদ্য পরাজিত সুজিত! ‘প্রভাবশালী’ তত্ত্বে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন কেন্দ্রীয় এজেন্সির

Sujit Bose Arrest Case: মঙ্গলবার ইডির আইনজীবী আদালতে সওয়াল করে জানান, ⁠প্রথমে সুজিত বসু সমনে সাড়া দেননি। পরে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে যান। তাদের অভিযোগ, ⁠সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিচ্ছেন না রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। তদন্তে ⁠অসহযোগিতা করেছেন।

Published on: May 12, 2026 06:53 PM IST
Advertisement

Sujit Bose Arrest Case: পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সোমবার রাতে দীর্ঘ ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুকে। মঙ্গলবার তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করে ১০ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এদিন ইডির আইনজীবী আদালতে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।

সুজিত বসুকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন কেন্দ্রীয় এজেন্সির
সুজিত বসুকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন কেন্দ্রীয় এজেন্সির

আদালতে সওয়াল চলাকালীন ইডির আইনজীবী জানান, অতিমারি চলাকালীন সুজিত বসুর পারিবারিক রেস্তরাঁটি বন্ধ থাকলেও সেই সময় কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হয়েছে। ইডির দাবি, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত হতে পারে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, সুজিত প্রভাবশালী এবং তিনি এখন মুক্তি পেলে তদন্তের তথ্যপ্রমাণ প্রভাবিত করতে পারেন এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের সতর্ক করে দিতে পারেন। এছাড়া তিনি তদন্তে অসহযোগিতা করছেন এবং সমনের সঠিক উত্তর দিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, সুজিত বসুর আইনজীবী আদালতে প্রশ্ন তোলেন, ২০২২-২৩ সালের পুরনো নথির ভিত্তিতে কেন এখন তাঁর মক্কেলকে গ্রেফতার করা হলো? তিনি আরও দাবি করেন যে, সিবিআই পুরনিয়োগ মামলায় যে চার্জশিট জমা দিয়েছে, সেখানে সুজিত বসুর নাম নেই।

মঙ্গলবার ইডির আইনজীবী আদালতে সওয়াল করে জানান, ⁠প্রথমে সুজিত সমনে সাড়া দেননি। পরে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে যান। তাদের অভিযোগ, ⁠সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিচ্ছেন না রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। তদন্তে ⁠অসহযোগিতা করেছেন। ইডির দাবি, ⁠এরপর তিনি ছাড়া পেলে অন‍্যদের সতর্ক করে দেবেন, কারণ, তিনি ‘প্রভাবশালী’ ছিলেন। এর ফলে তদন্ত ব‍্যাহত হবে। তিনি সাক্ষ‍্যপ্রমাণ প্রভাবিত করতে পারেন। ইডির সওয়াল, নিয়োগ মামলায় ধৃত ⁠অয়ন শীলের থেকে যে সব ডিজিটাল তথ‍্য পাওয়া গিয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে, সুজিত বেশ কয়েক জন চাকরিপ্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছেন দক্ষিণ দমদম পুরসভায়। উঠে এসেছে নিতাই দত্তের নামও। অভিযোগ, তাঁর মাধ্যমেই চাকরির সুপারিশ করা হত। ইডির আরও দাবি, ⁠বেনামি লেনদেন-সহ সুজিতের পরিবারের নামে যে সব সম্পত্তি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে। ⁠সুজিত এবং তাঁর পরিবারের ব‍্যাঙ্ক অ‍্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে কোটি কোটি টাকা ডিপোজিটের হিসাবও মিলেছে বলে দাবি ইডির। তাদের দাবি, ⁠চাইনিজ রেস্তরাঁ, বেঙ্গল ধাবা এবং অপর একটি রেস্তরাঁয় নগদ ডিপোজিট হয়েছে।

অন্যদিকে, এদিন সুজিতের আইনজীবী তাঁর মক্কেলের জামিনের আবেদন করেন। তাঁর সওয়াল, ইডি যে নথির উপর ভিত্তি করে সুজিতকে গ্রেফতার করেছে, সেই সব নথি ২০২২-২৩ সালের মধ্যে পাওয়া গিয়েছে। তা হলে ২০২৬ সালের মে মাসে এসে কেনও গ্রেফতার করা হল সুজিতকে? ২০২২ সালে পুর নিয়োগ মামলায় যে বয়ান নেওয়া হয়েছিল, তার উপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালে সুজিতকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে ইডি। সুজিতের আইনজীবীর দাবি, তদন্তের জন‍্য নয়, অন‍্য কোনও কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে প্রাক্তন বিধায়ককে। তাঁর কথায়, ‘ইডি বলছে আমি তদন্ত প্রভাবিত করতে পারি। ২০২২ থেকে তো তদন্ত চলছে। তখন তো প্রভাবিত করিনি!’ তাঁর আইনজীবীর দাবি, সিবিআই যে চার্জশিট দিয়েছে, তাতে সুজিতের নাম নেই। তদন্তের এই পর্যায়ে, ইডির যে আইনগত ক্ষমতা রয়েছে, তাতে শুধু জিজ্ঞাসাবাদের জন‍্য প্রাক্তন মন্ত্রীকে ইডি গ্রেফতার করে হেফাজতে নিতে পারে কিনা, তা নিয়েও সওয়াল করেন সুজিতের আইনজীবী। কারণ, ইডির আইন অনুযায়ী, কোনও অভিযুক্ত ‘গিল্টি’ (দোষী), এটা মনে করার পর্যাপ্ত কারণ থাকলে তাঁকে গ্রেফতার করা যেতে পারে। কিন্ত সুজিতের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে তারপর জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এরপরেই ইডির আইনজীবী জানান, যাকে গ্রেফতার করা হয়, তাঁকে যে মূল অভিযোগের ক্ষেত্রেও গ্রেফতার হতে হবে বা সেই মামলায় গ্রেফতার না হলে, ইডি তদন্ত করতে পারবে না, এ রকম কোনও বিষয় নেই। কেন ২০২২ সালের তদন্ত প্রমাণের ভিত্তিতে এখন সুজিতকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই প্রসঙ্গে ইডির আইনজীবী বলেন, ‘আমরা তো সবজান্তা নই। একটা করে ধাপ এগোতে এগোতে ছবিটা পরিষ্কার হয়েছে। ভিত শক্ত না করলে বলা হত, তদন্ত না করে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ ইডির আরও দাবি, স্বভূমি প্রোজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড নামে সংস্থাতেও ‘রহস‍্যজনক’ লেনদেন হয়েছে। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন। ধৃত অয়নের সঙ্গেও শেয়ার সংক্রান্ত যোগাযোগ মিলেছে। ভুয়ো সংস্থায় এবং জমিতে টাকা বিনিয়োগ এবং তছরুপ হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইডি।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছিলেন বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রের সদ্য পরাজিত এই তৃণমূল প্রার্থী। প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত ৯টা ১৫ মিনিট নাগাদ তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ইডি সূত্রে খবর, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় প্রায় ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম বেআইনিভাবে সুপারিশ করার বিনিময় সুজিত অন্যায্য সুবিধা নিয়েছিলেন। সেই টাকা একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। মঙ্গলবার সকালে বিধাননগর হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাঁকে আদালতে হাজির করানো হয়।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe