তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনকে ঘিরে তদন্তে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দলীয় অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৬৪ কোটি টাকার লেনদেনের স্পষ্ট হিসেব এখনও পাওয়া যায়নি। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত তথ্য ও লেনদেনের নথি চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে আরও ১২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে পুলিশ। ফলে এই মামলায় নতুন করে জোরদার হয়েছে তদন্ত।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, আর্থিক লেনদেনের প্রকৃতি এবং উৎস নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। বিপুল অঙ্কের টাকা বিভিন্ন সময়ে জমা ও স্থানান্তরিত হলেও তার যথাযথ হিসেব মিলছে না বলেই অভিযোগ। সেই কারণেই ব্যাঙ্কের কাছ থেকে অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট, লেনদেনের বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। ইডির লক্ষ্য, এই টাকার উৎস, ব্যবহার এবং এর সঙ্গে কোনও বেআইনি আর্থিক কার্যকলাপ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ দাবি করেছেন, 'এই ১৬৪ কোটি টাকা তো কিছুই নয়। তদন্ত এগোলে এই অঙ্ক এক হাজার কোটি টাকায় পৌঁছবে।' যদিও তাঁর এই দাবি এখনও কোনও সরকারি তদন্ত রিপোর্টে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই মামলার সূত্রপাত হয় তৃণমূলেরই এক বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে। অভিযোগে বলা হয়েছিল, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে পুলিশ তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে। পরে তদন্তের স্বার্থে আরও ১২টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথমে যে তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছিল, তাতে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা জমা রয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানিয়েছেন, আপাতত ওই তিনটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে সমস্ত আর্থিক লেনদেনের উপর নজরদারির জন্য আদালত একজন স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করেছে। তাঁর তত্ত্বাবধানে অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হবে।
{{/usCountry}}পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথমে যে তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছিল, তাতে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা জমা রয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানিয়েছেন, আপাতত ওই তিনটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে সমস্ত আর্থিক লেনদেনের উপর নজরদারির জন্য আদালত একজন স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করেছে। তাঁর তত্ত্বাবধানে অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হবে।
{{/usCountry}}এরই মধ্যে আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে তদন্তভার গ্রহণ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইডি সূত্রের খবর, শুধুমাত্র তিনটি নয়, দলের আরও একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া বিপুল অর্থের উৎস কী এবং তা আদৌ আইনসম্মত ছিল কি না।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে কথিত 'কাটমানি' সহ আরও কিছু সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের সূত্র মিলেছে। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তাধীন এবং ইডি বা আদালতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
বর্তমানে পুলিশ ও ইডি সমান্তরালভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। ব্যাঙ্কের কাছ থেকে চাওয়া নথি হাতে পাওয়ার পর তদন্ত আরও এগোবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই মামলায় শেষ পর্যন্ত কী তথ্য সামনে আসে এবং আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত চিত্র কী, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলির।