দুর্গাপুজোর আগে ফের কলকাতায় সক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বিপুল মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলার অভিযোগে সোমবার সকালে শহরের আটটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। টালিগঞ্জ এবং শরৎ বোস রোড-সহ দক্ষিণ কলকাতার একাধিক এলাকায় পৌঁছন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, বেআইনি আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বহু মানুষের টাকা সরিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা এবং আবাসন নির্মাণের কাজে লাগানো হয়েছে। এই টাকা কোথা থেকে এসেছে, কী ভাবে তা অন্যত্র সরানো হয়েছে এবং এর পিছনে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। গত সেপ্টেম্বরেও একই মামলার সূত্রে কলকাতার একাধিক ঠিকানায় অভিযান চালিয়েছিল ইডি। সেই তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই নতুন করে তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে খবর।
কীসের তদন্তে এই অভিযান?

তদন্তকারীদের সন্দেহ, বেশি লাভের আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে সেই অর্থের একটি অংশ বেআইনি সংস্থার মাধ্যমে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, ওই টাকা আবাসন নির্মাণ এবং অন্যান্য ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছিল। আর্থিক লেনদেনের এই গোটা প্রক্রিয়ায় কারা যুক্ত, তা জানার চেষ্টা করছেন ইডির আধিকারিকেরা।
তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য হল, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের প্রকৃত গন্তব্য খুঁজে বের করা। কোন কোন সংস্থার মাধ্যমে টাকা হাতবদল হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে কারা যুক্ত এবং আর্থিক লেনদেনের নথিতে কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই মামলায় নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার নাম প্রকাশ্যে আনেনি ইডি। ফলে অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
সেপ্টেম্বরেও চলেছিল তল্লাশি
এই মামলায় গত সেপ্টেম্বর মাসেও কলকাতার ১৭টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিলেন ইডির আধিকারিকেরা। দক্ষিণ কলকাতার দুটি জায়গায় অভিযান চালানোর পাশাপাশি দুটি সংস্থার দুই কর্তার বাড়িতেও পৌঁছেছিলেন তদন্তকারীরা। সেই সময় ব্যবসায়ীদের ব্যাঙ্কের নথি এবং সংস্থার হিসাবপত্র খতিয়ে দেখা হয়েছিল।
{{/usCountry}}এই মামলায় গত সেপ্টেম্বর মাসেও কলকাতার ১৭টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিলেন ইডির আধিকারিকেরা। দক্ষিণ কলকাতার দুটি জায়গায় অভিযান চালানোর পাশাপাশি দুটি সংস্থার দুই কর্তার বাড়িতেও পৌঁছেছিলেন তদন্তকারীরা। সেই সময় ব্যবসায়ীদের ব্যাঙ্কের নথি এবং সংস্থার হিসাবপত্র খতিয়ে দেখা হয়েছিল।
{{/usCountry}}তদন্তে আর্থিক লেনদেন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে আসে। বিদেশি মুদ্রা বিনিময়ের নামে বড় অঙ্কের অনিয়ম এবং টাকা সরানোর অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এই আর্থিক লেনদেনের সূত্র শুধু কলকাতায় সীমাবদ্ধ নয়। দেশের অন্য শহরের সঙ্গেও এর যোগ থাকতে পারে। সেই সূত্র ধরে দিল্লি, কলকাতা এবং বেঙ্গালুরু-সহ মোট ১৭টি জায়গায় তল্লাশি চালানোর কথা জানা গিয়েছে।
টাকার উৎস খুঁজছে কেন্দ্রীয় সংস্থা
সোমবারের অভিযানে মূলত আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন ইডির আধিকারিকেরা। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেওয়া টাকা কোথায় জমা করা হয়েছিল, কোন পথে তা অন্য সংস্থায় গিয়েছে এবং আবাসন ও অন্যান্য ব্যবসায় কী ভাবে বিনিয়োগ হয়েছে, সেই সব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আর্থিক তছরুপের অভিযোগ প্রমাণ করতে লেনদেনের নথি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সেই কারণেই তদন্তের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তল্লাশিতে কী কী নথি বা তথ্য হাতে এসেছে, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
পুজোর মুখে কলকাতায় পর পর এই অভিযান ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে তদন্তের এই পর্যায়ে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়নি। কারা এই আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত এবং সাধারণ মানুষের টাকা সরানোর অভিযোগের পিছনে কোনও সংগঠিত চক্র রয়েছে কি না, তদন্ত শেষ হলে সেই ছবিই স্পষ্ট হতে পারে।