বুধবার সাতসকালে কলকাতার একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। এএমপি চিটফান্ডের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগের তদন্তে শহরের অন্তত ছয়টি ঠিকানায় এই অভিযান চলছে বলে ইডি সূত্রে খবর। নারকেলডাঙা থেকে নেতাজিনগর, রবীন্দ্র সরোবর—কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় এদিন সকালে তদন্তকারীদের তৎপরতা দেখা যায়।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তকারীরা প্রথমে নারকেলডাঙা এলাকার এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে পৌঁছন। ওই ব্যবসায়ী একটি নির্মাণ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে। একইসঙ্গে ওই নির্মাণ সংস্থার ডিরেক্টর এবং চিটফান্ডে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি ঠিকানাতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সন্দেহ, এএমপি চিটফান্ডের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করা বিপুল অর্থের একটি অংশ পরে অন্য মাধ্যমে ঘোরানো হয়েছিল। সেই টাকা নির্মাণ ব্যবসার কাজে ব্যবহার করে বৈধ টাকা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইডির প্রাথমিক অনুমান, চিটফান্ডের টাকা কয়েকটি নির্মাণ প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে।
এই মামলায় এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট বা ইসিআর তৈরি হওয়ার পরই তল্লাশি শুরু হয়েছে। তদন্তকারীদের নজরে মূলত এমন কয়েকজন ব্যবসায়ী, যাঁদের মাধ্যমে চিটফান্ডের টাকা ঘোরানো এবং কালো টাকা সাদা করার চেষ্টা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ইডি সূত্রের দাবি, ওই ব্যবসায়ীদের মধ্যে কেউ কেউ অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে ‘লিঙ্কম্যান’ হিসেবে কাজ করে থাকতে পারেন।
নারকেলডাঙার ব্যবসায়ীর বাড়িতে কেন বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। সূত্রের দাবি, চিটফান্ডের অর্থ ওই ব্যবসায়ীর মাধ্যমে নির্মাণ সংস্থার বিভিন্ন প্রকল্পে প্রবেশ করানো হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তের বিষয় এবং তল্লাশি সম্পূর্ণ হওয়ার পরই আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
{{/usCountry}}নারকেলডাঙার ব্যবসায়ীর বাড়িতে কেন বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। সূত্রের দাবি, চিটফান্ডের অর্থ ওই ব্যবসায়ীর মাধ্যমে নির্মাণ সংস্থার বিভিন্ন প্রকল্পে প্রবেশ করানো হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তের বিষয় এবং তল্লাশি সম্পূর্ণ হওয়ার পরই আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
{{/usCountry}}এদিন শুধু একটি ঠিকানাতেই নয়, কলকাতার আরও একাধিক এলাকায় একইসঙ্গে অভিযান চালানো হচ্ছে। নেতাজিনগর এবং রবীন্দ্র সরোবর-সহ মোট ছয়টি জায়গায় ইডির আধিকারিকরা তল্লাশি করছেন বলে খবর। নথি, আর্থিক লেনদেনের কাগজপত্র, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য এবং সম্পত্তিতে বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে।
এদিকে এএমপি চিটফান্ড মামলায় ইডির এই অভিযান এমন এক সময় হল, যখন কলকাতা ও দক্ষিণ শহরতলিতে নির্মাণ ব্যবসাকে ঘিরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা চলছে। মঙ্গলবারই বেআইনিভাবে জমি দখল করে নির্মাণের অভিযোগে ব্যবসায়ী অমিত গঙ্গোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে ইডি। দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় জমি দখল করে আবাসন নির্মাণের অভিযোগ তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইডি সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অসহযোগিতার অভিযোগেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
পরপর দুই দিনের এই ঘটনাকে ঘিরে নির্মাণ ব্যবসা এবং আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র নিয়ে তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। তবে এদিনের তল্লাশিতে এখনও পর্যন্ত কী কী নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, তা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি।
এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, এএমপি চিটফান্ডের টাকা কোন পথে ঘুরেছে, কারা সেই অর্থ গ্রহণ করেছে এবং শেষ পর্যন্ত তা কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছিল—তার সম্পূর্ণ হিসাব সামনে আনা। তল্লাশি শেষে পাওয়া নথি ও তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করবে ইডি।