কালীঘাটে দেবাশিস কুমার ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতার বাড়িতে হানা ইডির। জানা গিয়েছে, সেই নেতার নাম কুমার সাহা। দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম প্রভাবশালী নেতা এই কুমার সাহা। জমি কেলেঙ্কারির মামলার তদন্তে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। এছাড়াও সল্টলেক সহ মোট ৫ জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে ইডি। এদিকে কুমার সাহার বাড়িতে ইডির তল্লাশি চালানোয় তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।

কুমার সাহার বাড়ি কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘিরে রেখেছে। আপাতত ওই বাড়িটিতে প্রবেশ কিংবা বাড়ি থেকে কারও বেরনোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের অফিসেও আজ ইডি হানা দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে মনোহরপুকুর রোডে অবস্থিত বিদায়ী বিধায়ক দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আজ সকালবেলা পৌঁছে যান আয়কর বিভাগের অফিসাররা। শুরু হয় তল্লাশি। তৃণমূল নেতার অফিসেও অভিযান চালানো হয়। উল্লেখ্য, দেবাশিসকে কয়েকদিন আগেই ইডি তলব করেছিল। আর এবার আয়কর দফতরের অভিযান তাঁর বাড়িতে। এই পরিস্থিতিতে ঘাসফুল শিবির রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ করছে বিজেপির বিরুদ্ধে।
এর আগে মার্চের শেষের দিকে কলকাতা ও আশপাশের বেশ কিছু জায়গায় হানা দিয়েছিল ইডি আধিকারিকরা। একটি সংস্থার একাধিক দফতরে তল্লাশি চলেছে। সূত্রের খবর, জমি দখলের অভিযোগে ১৬-১৭টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। তার ভিত্তিতেই এই তদন্ত চলছে। ওই তল্লাশি অভিযানের পর ডাকা হয়েছিল দেবাশিস কুমারকে। গত ১, ৩ এবং ৯ এপ্রিল সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় এবং তিনি ওই কেন্দ্রীয় সংস্থার দফতরে হাজিরাও দিয়েছিলেন। ইডির তরফে জানা গিয়েছিল, একাধিক ব্যবসায়িক সংস্থার আর্থিক লেনদেন ও জমি সংক্রান্ত অনিয়মের সূত্র ধরেই উঠে আসে তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক দেবাশিস কুমারের নাম। অভিযোগ, এক ব্যবসায়ী বেআইনি জমির মালিকানাকে আইনি প্রক্রিয়ায় মসৃণ করতে দেবাশিস কুমারের সহায়তা চেয়েছিলেন। সেই সূত্রেই জমি সংক্রান্ত এই লেনদেনে তৃণমূল বিধায়কের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে তদন্তকারীদের মধ্যে।