সোমবার সকালেই কলকাতা থেকে দিল্লি—একাধিক ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। তল্লাশির কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হক। তাঁর মালিকানাধীন উর্দু সংবাদপত্রের কলকাতার অফিস, দিল্লির দপ্তর এবং রাজধানীতে তাঁর বাসভবনেও ইডি আধিকারিকরা অভিযান চালিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের তদন্তেই এই তল্লাশি বলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

কলকাতায় পার্ক সার্কাসের ১২, দরগা রোডে ‘আকবর-ই-মশরিক প্রাইভেট লিমিটেড’-এর দপ্তরে সকালেই পৌঁছন ইডির আধিকারিকরা। অফিসটি তালাবন্ধ থাকলেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে তদন্তকারীরা সেখানে প্রবেশ করেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে অফিসের বিভিন্ন নথি, আর্থিক কাগজপত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী পরীক্ষা করা হয়।
ইডি সূত্রের অভিযোগ, ওই সংবাদপত্রের দপ্তর থেকে একাধিক আর্থিক লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে কিছু লেনদেন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেও যুক্ত বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। ওই অর্থের উৎস কী, কার সঙ্গে কী উদ্দেশ্যে লেনদেন হয়েছে এবং সেগুলির পক্ষে যথাযথ নথিপত্র রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান বলে সূত্রের দাবি।
শুধু কলকাতাতেই থেমে থাকেনি তদন্ত। দিল্লিতেও নাদিমুল হকের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়। রাজধানীর ৬১, সাউথ অ্যাভিনিউয়ে তাঁর একটি অফিস রয়েছে, যা তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কাজকর্মের জন্য ব্যবহৃত হয়। পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের দিল্লিকেন্দ্রিক বিভিন্ন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কাজকর্মও ওই দপ্তর থেকে পরিচালিত হয় বলে জানা যায়। সোমবার সকাল থেকেই সেখানে ইডির আধিকারিকরা তল্লাশি শুরু করেন।
এর পাশাপাশি দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদের সরকারি বাংলোতেও তদন্তকারীরা পৌঁছন। নাদিমুল হকের দপ্তরের মাধ্যমে বেনামে বা সন্দেহজনক উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রে দাবি।
{{/usCountry}}এর পাশাপাশি দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদের সরকারি বাংলোতেও তদন্তকারীরা পৌঁছন। নাদিমুল হকের দপ্তরের মাধ্যমে বেনামে বা সন্দেহজনক উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রে দাবি।
{{/usCountry}}তল্লাশি চলাকালীন ইডি আধিকারিকরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও আর্থিক রেকর্ড খতিয়ে দেখেছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে অভিযানের শেষে কী কী নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু প্রকাশ্যে আসেনি। একইভাবে, তদন্তের ভিত্তিতে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তাও এখনও স্পষ্ট নয়।
এই অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কারণ, তদন্তের পরিধিতে যেমন নাদিমুল হকের ব্যক্তিগত দপ্তর ও বাসভবন রয়েছে, তেমনই রয়েছে তৃণমূলের কাজে ব্যবহৃত একটি অফিসও। ফলে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের তদন্ত কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নাদিমুল হকও প্রকাশ্যে কোনও বক্তব্য দেননি। ফলে ইডির অভিযোগের প্রকৃতি, তল্লাশিতে পাওয়া তথ্য এবং তদন্তের পরবর্তী গতিপথ নিয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর অবকাশ নেই। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সরকারি ভাবে প্রকাশিত তথ্যের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।