নির্বাচনের পরপরই প্রাক্তন মন্ত্রী রথীন ঘোষকে তলব করেছিল ইডি। আজ তাঁর হাজির হওয়ার কথা ছিল জেরার জন্য। তবে তিনি হাজিরা দিলেন না। তৃণমূল নেতা দাবি করলেন, তিনি নাকি শৌচালয়ে পড়ে গিয়ে চোট পেয়েছেন এবং চিকিৎসক তাঁকে অন্তত ১০ দিন বিছানায় বিশ্রাম করতে বলেছেন। এদিকে আজ প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকেও তলব করেছিল ইডি। তবে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক কাজে ব্যস্থ থাকায় তিনি আজ হাজির হতে পারবেন না। এর আগে ভোটের কাজে ব্যস্ত বলে তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসু এবং রথীন ঘোষ ইডির কাছে সময় চেয়েছিলেন। এবার ভোট মিটতেই তাঁদের তলব করা হয়। তবে ফের হাজিরা এড়ালেন তাঁরা।

এর আগে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বিদায়ী দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর প্রাক্তন জামাইকেও জেরা করেছিল ইডি। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নথি তিনি ইডি দফতরে জমা দিয়েছিলেন। এদিকে সল্টলেক সেক্টর ওয়ানের যে ভবনে সুজিত বসুর দফতর ছিল, সেখানেও কয়েক মাস আগে তল্লাশি চালিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। এছাড়া সুজিতের পরিবারের মালিকানাধীন একটি রেস্তরাঁ এবং গোলাহাটায় তাঁদের একটি ধাবাতেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। এসব জায়গা থেকে ইডি বেশ কিছু নথিও উদ্ধার করেছিল। এছাড়া সুজিত বসুর স্ত্রী, কন্যা এবং পুত্রকেও ইডি নোটিশ পাঠিয়েছিল হাজিরার জন্য।
ইডি বলেছিল, পুরনিয়োগ দুর্নীতির টাকার একটা অংশ বিভিন্ন হোটেল, রেস্তরাঁসহ কিছু ব্যক্তিগত ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে তাদের সন্দেহ। উল্লেখ্য, পুরনিয়োগ দুর্নীতির তদন্তের সূত্রপাত হয়েছিল স্কুল সার্ভিস দুর্নীতি তদন্তের সময়। ব্যবসায়ী অয়ন শীলকে সিবিআই গ্রেফতার করার পর তাঁর সল্টলেক অফিসে তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছিল একগুচ্ছ ওএমআর শিট। সেই নথি থেকেই সামনে আসে পুরসভার নিয়োগেও জালিয়াতির বিষয়টি। অয়নের সংস্থা পুরনিয়োগে ওএমআর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল। সেই সূত্র ধরে একে একে বহু দফতর ও ব্যক্তির উপর নজর রেখে চলেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। আর এই মামলায় আর্থিক অনিয়মের দিকটি সামনে আসতেই তদন্তে নামে ইডিও।