ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া এসআইআর ঘিরে রাজ্যে ফের মৃত্যু। ধূপগুড়ির বারোঘরিয়া অঞ্চলের বর্মনপাড়ার ১৭০ নম্বর বুথে মঙ্গলবার বিকেলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮০ বছরের লালুরাম বর্মনের। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, এসআইআর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কে ছিলেন বৃদ্ধ। বাড়িতে বিএলও তথ্য যাচাই করতে আসার সময় সেই আতঙ্কই তাঁর হৃদরোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন: SIR-এ ১.২ কোটি নাম বাদ দেওয়ার দাবি শান্তনু ঠাকুরের, মুখ খুলল নির্বাচন কমিশন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বহু বছর আগে বাংলাদেশ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে ভারতে এসেছিলেন লালুরাম বর্মন। এখানে এসে আধার কার্ড তৈরি হলেও ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারেননি তিনি। সেই নিয়েই তাঁর মনোকষ্ট ছিল প্রবল। সম্প্রতি এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। আশেপাশের গ্রামে নাম বাদ পড়া, যাচাই-বাছাই আর নতুন করে তথ্য সংগ্রহের খবরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন বৃদ্ধ। মঙ্গলবার বিকেলে যখন বিএলও তাঁর বাড়িতে পৌঁছান, ঠিক তখনই বুকে ব্যথা অনুভব করেন লালুরাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাঁর। পরিবারের দাবি, তিনি খুব ভীত হয়ে পড়েছিলেন। ভেবেছিলেন নাম না থাকলে হয়তো নাগরিকত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। বিএলও আসার কথা শুনেই তিনি ঘাবড়ে যান। তাঁদের কথাতেই উঠে এসেছে, এসআইআর আতঙ্কই বৃদ্ধের মৃত্যুর পেছনে মূল কারণ।
ঘটনা ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের জলপাইগুড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক এবং ধূপগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি দীপু রায় বলেন, এসআইআর নিয়ে রাজ্যজুড়ে যে ভয় তৈরি হয়েছে, এই মৃত্যুই তার ফল। ওই বৃদ্ধ ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন। ভোটার তালিকায় নাম ছিল না। বিএলও দেখেই তিনি আতঙ্কে মারা গিয়েছেন।
{{/usCountry}}ঘটনা ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের জলপাইগুড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক এবং ধূপগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি দীপু রায় বলেন, এসআইআর নিয়ে রাজ্যজুড়ে যে ভয় তৈরি হয়েছে, এই মৃত্যুই তার ফল। ওই বৃদ্ধ ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন। ভোটার তালিকায় নাম ছিল না। বিএলও দেখেই তিনি আতঙ্কে মারা গিয়েছেন।
{{/usCountry}}অন্যদিকে বিজেপি পুরো অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। দলটির জেলা কমিটির সদস্য ঈশ্বরচন্দ্র রায়ের বক্তব্য, লালুরামবাবু বহুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। কাকতালীয়ভাবে বিএলও উপস্থিত থাকাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এর সঙ্গে এসআইআরের কোনও সম্পর্ক নেই। বিজেপির দাবি, তৃণমূল অযথাই একটি স্বাভাবিক মৃত্যুকে রাজনৈতিক রং দিতে চাইছে।