কলকাতায় সিইও মনোজ আগরওয়ালের দফতর ঘেরাও থেকে শুরু করে মালদার কালিয়াচক বিডিও অফিস ঘেরাও, এই দুই ঘটনা থেকে বড় শিক্ষা গ্রহণ করল নির্বাচন কমিশন। এবার রাজ্যজুড়ে অনুমতি ছাড়া মিছিল-জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এদিকে যদি কেউ এই নির্দেশ অমান্য করেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এরই সঙ্গে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে যাওয়ার জন্য আগে থেকে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সিইও দফতর ঘেরাওয়ের ঘটনায় কলকাতা পুরসভার দুই তৃণমূল কাউন্সিলর (৩২ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু এবং ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের সচিন সিং) সহ মোট ছ’জনের বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৩১ মার্চ মধ্যরাতে স্ট্র্যান্ড রোডে শিপিং কর্পোরেশন বিল্ডিংয়ের সামনে তৃণমূলের এই দুই কাউন্সিলরের নেতৃত্বে কয়েক জন কর্মী-সমর্থক বেআইনি জমায়েত করেন। সিইও-র বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ রাস্তা অবরোধ করে রাখা হয় বলে অভিযোগ। এদিকে বিএলও রক্ষা কমিটি এবং বিএলও রক্ষা মঞ্চ ১ এপ্রিল অবস্থান বিক্ষোভ করে কমিশনের অফিসের সামনে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের উদ্দেশ্যে উস্কানিমূলক স্লোগান দেন তৃণমূলপন্থী বিএলও-রা।
অপরদিকে মালদার কালিয়াচকে বিডিও অফিসে ৭ বিচারককে ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় এআইএমআইএম নেতা তথা আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে। সব মিলিয়ে এই মামলায় প্রায় ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মোথাবাড়ি কেন্দ্রের আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলিও গ্রেফতার হয়েছে এই মামলায়। রিপোর্ট অনুযায়ী, ১ এপ্রিল বিকেল ৪টে থেকে কালিয়াচক ২ ব্লক অফিস ঘেরাও করে বহু মানুষ। সেই সময় বিডিও অফিসে ছিলেন ৭ জন বিচারক। গভীর রাত পর্যন্ত এই সব বিচারকদের বিডিও অফিসেই আটকে রাখে বিক্ষোভকারীরা। সেই ঘটনার নেপথ্যে অন্যতম 'মাথা' এই মোফাক্কেরুল ছিল বলে অভিযোগ। প্রায় ৮ ঘণ্টা ধরে কালিয়াচক ২ ব্লক অফিসে ঘেরাও ছিলেন ৭ বিচারক। প্রায় মধ্যরাতে সেই বিচারকদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। এদিকে এই ঘটনার পরও বিচারকদের ওপর হামলার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। কালিয়াচক ২ ব্লক অফিস থেকে যখন বিচারকদের পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়, সেই কনভয়ে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ কনভয়ের গাড়ির কাচ ভেঙেছে সেই হামলায়। সেই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার মূলচক্রী হিসাবে মোফাক্কেরুলের নাম উঠে আসে। নাম জড়ায় আইএসএফ প্রার্থীরও।