Voter Death: মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ভাবেই সম্পন্ন হল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। তবে এরই মাঝে বিভিন্ন জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী বল প্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের তরফ থেকে। এমনকী কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ানের ধাক্কায় বৃদ্ধ ভোটারের মৃত্যু হয়েছে বলেও অভিযোগ করে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে রাজ্যের শাসকদলের এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের ৮১ বছর বয়সি এক ভোটারের মৃত্যু হয় ভোটের লাইনে। মৃতের নাম পূর্ণ চন্দ্র দলুই। সেই ঘটনা নিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের এক্স হ্যান্ডেলে ছবি পোস্ট করেন। তিনি সেই পোস্টে লেখেন, 'কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির ব্যক্তিগত আর্মিতে পরিণত হয়েছে।' কেন্দ্রীয় বাহিনীকে 'লাইসেন্সপ্রাপ্ত গুন্ডা' বলে তোপ দাগেন তিনি। তবে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোট দিতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান সেই বৃদ্ধ ভোটার। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এদিকে অভিষেক নিজের পোস্টে লেখেন, 'উদয়নারায়ণপুরে এক বৃদ্ধ তাঁর ছেলের সঙ্গে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। নিজে নিজে হাঁটার মতো শারীরিক অবস্থা না থাকায় তাঁর ছেলে তাঁকে বুথে ঢুকতে সাহায্য করার চেষ্টা করেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী দুজনকেই ধাক্কাধাক্কি ও হেনস্থা করে। বৃদ্ধটি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, তাঁকে দ্রুত আমতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে পৌঁছানোর পর মৃত ঘোষণা করা হয়। ভোর থেকেই এই কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ নাগরিকদের ওপর সন্ত্রাস চালাচ্ছে—মহিলাদের চড় মারছে, বয়স্কদের ওপর হামলা করছে, এমনকি শিশুদেরও আক্রমণ করছে। এটাই ২০২১ সালের শীতলকুচি মানসিকতা: নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ঠান্ডা মাথার, নির্মম সহিংসতা। ২০২১ সালে নিরীহদের রক্তের জন্য বিজেপিকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। ২০২৬ সালে তাদের আরও চড়া মূল্য দিতে হবে। আর বাংলায় ঘুরে বেড়ানো জল্লাদদের বলছি: তোমরা কোন রাজ্য থেকে এসেছো তাতে কিছু যায় আসে না। কার রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা তোমাদের রক্ষা করছে, সেটাও কোনো বিষয় নয়। এই বর্বরতার সাথে জড়িত তোমাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করে আইনের পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি করা হবে। তোমাদের এই ত্রাসের রাজত্বের অবসান ঘটবে সম্পূর্ণ ধ্বংসের মাধ্যমে।'