পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্য-রাজনীতি। মালদার কালিয়াচকে ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) কাজে নিযুক্ত সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে ঘেরাও এবং হেনস্থা করার ঘটনায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের কড়া মনোভাবের পরে এই গোটা ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএয়ের হাতে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো রিপোর্ট দিতে হবে। সেইসঙ্গে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদেরও ভর্ৎসনা করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
ঘটনার সূত্রপাত ও বিচারকদের ঘেরাও

বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকায় নাম ওঠেনি বলে দাবি করে উত্তাল হয়ে ওঠে মালদা। অভিযোগ উঠেছে, সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখা হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, ভোটার তালিকা থেকে বৈধ নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। এই ঘটনায় রাজ্যের প্রশাসনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন ওঠে।
আরও পড়ুন: HS Semester Exam Future: উচ্চমাধ্যমিকের সেমেস্টার প্রথা বাতিল হয়ে যাচ্ছে?
সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনা ও এনআইএ তদন্ত
বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ালে বিচারপতিরা ক্ষোভপ্রকাশ করেন। সেই ঘটনার তদন্তের জন্য সিবিআই বা এনআইএয়ের মতো সংস্থার হাতে দায়িত্বভার তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেইসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং জেলাশাসককে শোকজ করা হয়। এরপরই নির্বাচন কমিশন বুধবারের ওই ঘটনার তদন্তভার কেন্দ্রীয় সংস্থা এনআইএয়ের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ভোটমুখী রাজ্যে কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এমন এন্ট্রি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা তোপ
{{/usCountry}}মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা তোপ
{{/usCountry}}এই ঘটনায় সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর দায় চাপিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে অশান্তি ছড়িয়ে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে। মমতা বলেন, "ভোটের মুখে রাজ্যকে অস্থির করার চক্রান্ত চলছে।" অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছে যে, তৃণমূল আসলে 'ভুয়ো ভোটারদের' রক্ষা করতে এই বিক্ষোভের নাটক সাজিয়েছিল।
আরও পড়ুন: UPSC Success Story: বয়স ২২, মোটে ১ বছরের প্রস্তুতি, কীভাবে ‘কঠিনতম’ পরীক্ষা পাশ করে IAS হলেন অনন্যা?