ECI Guidelines on Bike Rally: নজরে ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচন যাতে সুষ্ঠভাবে সুসম্পন্ন হয়, তার জন্য চলতি বিধানসভা ভোটে এবার নজরদারি আরও বাড়াতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বিভিন্ন নির্বাচনে প্রায়শই বাইক নিয়ে র্যালি করার সময় অশান্তির খবর উঠে আসে শিরোনামে। তাই সেই ধরনের ঘটনা এড়াতেই এবার কমিশন কড়া ব্যবস্থা নিতে চলেছে। ভোটের দু দিন আগে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কমিশন জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে রাস্তায় বাইক নিয়ে বেরনো যাবে না। বাইক মিছিল তো করাই যাবে না, সেই সঙ্গে খুব জরুরি দরকার ছাড়া বাইক নিয়ে বেরনো যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে কমিশনের নির্দেশিকায়।
বাইক মিছিল নিয়ে কড়াকড়ি নির্বাচন কমিশন
প্রথম দফা ভোটের ঠিক দু দিন আগে বাইক নিয়ে বিশেষ নির্দেশিকা দেওয়া হল নির্বাচন কমিশনের তরফে। এর আগে কোনও নির্বাচনে এতটা কঠোরভাবে বাইক চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে। কমিশনের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও বাইক র্যালি করা যাবে না। সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক নিয়ে রাস্তায় বের হওয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এই সময়ের মধ্যে কোনও ব্যক্তি যদি অকারণে বাইক নিয়ে রাস্তায় বের হন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কমিশনের মতে, এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হল ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সম্ভাব্য অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করা।
নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার তৎপরতা বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে বাইক র্যালি অনেক সময়েই উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছে কমিশন। তাই আগেভাগেই এমন জমায়েত বন্ধ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ও রাখা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে বাইক ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হলে বা সন্তানের স্কুল সংক্রান্ত কোনও জরুরি কাজে বাইক নিয়ে বের হওয়া যাবে। কিন্তু সেই ক্ষেত্রেও প্রমাণসাপেক্ষ কারণ দেখাতে হবে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র যুক্তিযুক্ত এবং প্রয়োজনীয় কারণেই বাইক ব্যবহার করা যাবে, অন্যথায় নয়। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ হল, প্রয়োজন ছাড়া বাইকের পিছনের আসনে কাউকে বসানো যাবে না। কমিশনের মতে, একাধিক ব্যক্তি বাইকে চড়লে তা সহজেই জমায়েত বা মিছিলের রূপ নিতে পারে, যা নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে। তাই এই নিয়ম কঠোরভাবে মানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করতে প্রশাসনকেও বিশেষভাবে সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে। পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা নিয়মিত টহলদারি চালায় এবং কোথাও কোনও নিয়ম ভঙ্গ হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় নাকা চেকিং শুরু হয়েছে এবং সন্দেহজনক চলাচলের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
প্রশ্ন তুলছে শাসকদল
বর্তমান সময়ে বাইক স্কুটির উপর নির্ভর করে নানা কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। অনলাইনে খাবার ডেলিভারি করা থেকে শুরু করে কোনও গন্তব্যস্থলে যাতায়াত করার জন্য অনেকেই Ola, Uber এবং Rapido-এর মাধ্যমে বাইক বা স্কুটিতে যাতায়াত করে তাহলে সেক্ষেত্রে তাঁদের কী হবে। শাসকদলের তরফে অভিযোগ , ‘সুপার এমার্জেন্সি চালু করেছে। মানুষের জীবন-জীবিক চলে এই বাইকে চেপেই। তাহলে সেটা কেন নির্বাচন কমিশন বন্ধ করে দিচ্ছে?' তৃণমূল কংগ্রেস মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার নির্দেশিকা বেরনোর পরই বলেন, 'সুইগি, জোমাটো-তে বহু মানুষ ডেলিভারি করে। সেই জীবিকাতেও কি এবার কোপ দিতে চাইছে কমিশন? জ্ঞানেশ কুমার কী করতে চাইছেন?' যদিও কমিশনের স্পষ্ট দাবি, শান্তিপূর্ণ ভোটের উদ্দেশেই এই ব্যবস্থা। এছাড়াও ভোটের আগে থেকে রাজ্যের সীমান্ত অঞ্চলে যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
{{/usCountry}}বর্তমান সময়ে বাইক স্কুটির উপর নির্ভর করে নানা কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। অনলাইনে খাবার ডেলিভারি করা থেকে শুরু করে কোনও গন্তব্যস্থলে যাতায়াত করার জন্য অনেকেই Ola, Uber এবং Rapido-এর মাধ্যমে বাইক বা স্কুটিতে যাতায়াত করে তাহলে সেক্ষেত্রে তাঁদের কী হবে। শাসকদলের তরফে অভিযোগ , ‘সুপার এমার্জেন্সি চালু করেছে। মানুষের জীবন-জীবিক চলে এই বাইকে চেপেই। তাহলে সেটা কেন নির্বাচন কমিশন বন্ধ করে দিচ্ছে?' তৃণমূল কংগ্রেস মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার নির্দেশিকা বেরনোর পরই বলেন, 'সুইগি, জোমাটো-তে বহু মানুষ ডেলিভারি করে। সেই জীবিকাতেও কি এবার কোপ দিতে চাইছে কমিশন? জ্ঞানেশ কুমার কী করতে চাইছেন?' যদিও কমিশনের স্পষ্ট দাবি, শান্তিপূর্ণ ভোটের উদ্দেশেই এই ব্যবস্থা। এছাড়াও ভোটের আগে থেকে রাজ্যের সীমান্ত অঞ্চলে যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
{{/usCountry}}এছাড়া, রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ভোট হওয়ার জন্য গলি বা ঘিঞ্জি এলাকায় অবস্থিত বুথগুলির ক্ষেত্রেও করা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে। জানা গিয়েছে, ওই সব এলাকায় অশান্তি হলে পুলিশ যাতে দ্রুত সেখানে পৌঁছতে পারে, তার জন্য এবার বাইক ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেখানে পুলিশের বড় গাড়ি বা পিসিআর ভ্যান পৌঁছনো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই প্রতিটি থানার অধীনে একটি দক্ষ বাইক বাহিনী প্রস্তুত রাখতে হবে।