ভুল করলে বিএলও-দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নিজেই। ভারতের নির্বাচন কমিশন এই কথা জানিয়েছে। এর আগে রাজ্য সরকারকে এই নিয়ে নির্দেশ দিতে হত। নির্বাচন কমিশনের কথা অনুযায়ী রাজ্য সরকার সব সময় কাজও করত না। এই আবহে সিইওর এক্তিয়ার বাড়িয়ে দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে কিছু বিএলও-র বিরুদ্ধে। এই আবহে এসআইআর প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই আবহে নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, কোনও বিএলও-র বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে আইন অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের এক্তিয়ার আরও বেড়েছে। দেশের সব রাজ্যের সিইও-দের এক্তিয়ার বৃদ্ধি করেছে নির্বাচন কমিশন। এই মর্মে সব রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে চিঠিও গিয়েছে দিল্লি থেকে।
ভারতের নির্বচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, নয়া নিয়মে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকরা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে কোনও বিএলও-র বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারবেন। এছাড়াও ডিইও বা ইআরও-র রিপোর্টের ভিত্তিতেও পদক্ষেপ করা যাবে বিএলও-র বিরুদ্ধে। তবে কী কী পদক্ষেপ করা যাবে বিএলওর বিরুদ্ধে? বিএলও-কে সাময়িক বরখাস্ত, বিএলওর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ বা এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিতে পারবেন সিইও।
কোন ক্ষেত্রে বিএলওর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারবেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক? দায়িত্বে অবহেলা, গাফিলতি, অসদাচরণ, কমিশনের নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করা, কিংবা ভোটার নিবন্ধন বিধি অমান্য করার অভিযোগ উঠলে বিএলওর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারবেন সিইও। প্রয়োজনে, জনপ্রতিনিধি আইন, ১৯৫০-এর ৩২ নং ধারা অনুযায়ী ডিইও অভিযুক্ত বিএলওর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করাতে পারবেন। তবে সেই ক্ষেত্রে সিইওর অনুমতি প্রয়োজন হবে। এদিকে বাংলায় এসআইআরের কাজের সময় কোনও বিএলওর ওপর হামলা হলে তৎক্ষণাৎ এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন সিইও মনোজ আগরওয়াল।