ভোটপর্ব ভালো ভাবে কাটলেও ফল প্রকাশের পরে পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসার বলি অন্তত ৪ জন। পৃথক ঘটনায় বিজেপির দুই কর্মীকে খুন করা হয় হাওড়া এবং নিউটাউনে। আবার তৃণমূলের দুই কর্মীকে পৃথক ঘটনায় হত্যা করা হয় বেলেঘাটা এবং নানুরে। এরই সঙ্গে জায়গায় জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ডোমকলে আবার সিপিএম কর্মীকে গলায় গুলি করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এই সবের মাঝে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। নির্বিঘ্নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা কমিশনের কাছে এখন বড় পরীক্ষা হিংসা ঠেকানো। এই আবহে দিল্লি থেকে মির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভাঙচুর বা হিংসার ঘটনা দেখলেই অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় ঢিলেমি কোনও ভাবে মেনে নেওয়া হবে না। রাজনীতির রং না দেখে হিংসার ঘটনায় পদক্ষেপ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। এদিকে তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলার ঘটনাগুলিতে বিজেপির বিরুদ্ধে আঙুল উঠেছে। তবে গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, এই ঘটনায় দলের কর্মীরা যুক্ত নয়। তৃণমূলের হারের পর সেই দলেরই একাংশ অন্য গোষ্ঠীর ওপর হামলা করছে বিজেপির পতাকা নিয়ে। এই আবহে সব দোষীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার কাছে আর্জি জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
উল্লেখ্য, ভোট পরবর্তী হিংসায় রাজ্যে বিজেপি এবং তৃণমূল দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু ঘটেছে এই পর্যন্ত। হাওড়া, বেলেঘাটা, নানুর থেকে নিউটাউনে ঝরেছে রক্ত। এরই সঙ্গে বহু জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলা হয়েছে। আবার অনেক জায়গায় বিজেপির জয়ী প্রার্থীরা গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের অভয় প্রদান করে এসেছেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনও হিংসায় বিজেপি কর্মীরা জড়িত থাকলে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। সঙ্গে তিনি এও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তৃণমূলের একটি অংশ এখন অপর পক্ষকে বিজেপি পতাকা হাতে মারছে। এই আবহে সদ্য তৃণমূল থেকে স্বঘোষিত বিজেপি হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে সাবধান করেছেন তিনি। এছাড়া দলের রং না দেখে প্রশাসনকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানিয়েছেন তিনি।