...
...
Next Story

জনসাধারণের সমস্যা সমাধানে রাজ্য সরকারের বড় পদক্ষেপ! প্রতি সপ্তাহে ২ দিন ‘জনতার দরবার’-এ উপস্থিত থাকতে হবে অফিসারদের

নবান্নের এই নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে ব্লক স্তর পর্যন্ত সরকারি অফিসারদের সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে মুখোমুখি 'জনতার দরবার' বা গণশুনানির আয়োজন করতে বলা হয়েছে।

Published on: Aug 31, 2026, 09:01:02 IST
Advertisement

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক পরিষেবা আমজনতার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনার লক্ষ্যে এক নয়া ও যুগান্তকারী নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্ন। এ বার থেকে ব্লকের বিডিও (BDO) থেকে শুরু করে মহকুমা শাসক (SDO), জেলা শাসক (DM) এবং মিউনিসিপ্যাল কমিশনার সহ প্রতিটি দপ্তরের ফিল্ড-লেভেলের শীর্ষ আধিকারিকদের প্রতি সপ্তাহে বাধ্যতামূলকভাবে দু'দিন করে সাধারণ মানুষের মুখোমুখি বসতে হবে।

জনসাধারণের সমস্যা সমাধানে সরকারের বড় পদক্ষেপ! প্রতি সপ্তাহে ২ দিন ‘জনতার দরবার’
জনসাধারণের সমস্যা সমাধানে সরকারের বড় পদক্ষেপ! প্রতি সপ্তাহে ২ দিন ‘জনতার দরবার’

নবান্নের এই নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে ব্লক স্তর পর্যন্ত সরকারি অফিসারদের সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে মুখোমুখি 'জনতার দরবার' বা গণশুনানির আয়োজন করতে বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে প্রশাসনিক জটিলতা এড়িয়ে কোনো অগ্রিম অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা অনুমতি ছাড়াই নিজেদের অভাব-অভিযোগ এবং আবেদনের কথা আধিকারিকদের জানাতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই বন্দোবস্ত।

১. সপ্তাহের কোন দিনগুলোতে ও কতক্ষণ বসবে 'জনতার দরবার'?

নবান্ন সূত্রে জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে সময়সূচী ও দিনক্ষণ:

  • নির্দিষ্ট দিন ও সময়: প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার এবং বৃহস্পতিবার সকাল ১০:৩০ টা থেকে দুপুর ১:০০ টা পর্যন্ত আধিকারিকরা সরাসরি জনসাধারণের মুখোমুখি হবেন।
  • অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই সাক্ষাৎ: এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যেকোনো সাধারণ নাগরিক কোনো পূর্ব অনুমতি বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই সরাসরি জেলা শাসক, মহকুমা শাসক, বিডিও কিংবা মিউনিসিপ্যাল কমিশনারের টেবিলে গিয়ে সমস্যা জানাতে পারবেন।
  • অন্যান্য কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ: নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত ওই আড়াই ঘণ্টার সময়ে আধিকারিকরা যেন কোনো প্রশাসনিক বৈঠক, মাঠ পরিদর্শনের অফিশিয়াল সফর কিংবা অন্যান্য কর্মসূচি যথাসম্ভব না রাখেন। ওই নির্দিষ্ট সময়টি পুরোপুরি আমজনতার কথা শোনার জন্যই সংরক্ষিত থাকবে।

২. প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিভিত্তিক তদারকি

১. মোবাইল ও ইমেল নম্বর প্রকাশ: প্রশাসনিক দপ্তরের সামনে এবং অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ইমেল ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষ অনায়াসে যোগাযোগ করতে পারেন।

২. অভিযোগ নিস্পত্তির ট্র্যাকিং ও রেকর্ড: সাধারণ মানুষের থেকে পাওয়া অভিযোগ কেবল শুনলেই চলবে না, সেই অভিযোগগুলোর ওপর কী কী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো (Action Taken), তার লিখিত রেকর্ড বা রেজিস্টার রাখতে হবে দপ্তরের কর্তাদের।

৩. অগ্রিম নোটিশ টাঙানো: দপ্তরের সামনে আগাম বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দিতে হবে সপ্তাহের কোন দিন ও কোন সময়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক জনশুনানির জন্য উপবিষ্ট থাকবেন।

৩. কেন এত বড় সিদ্ধান্ত নবান্নের?

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে শহরাঞ্চলে রাজ্য সরকারের একাধিক জনকল্যাণমুখী প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। কিন্তু অনেক সময় স্থানীয় স্তরের জটিলতা বা আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতের ফাঁসে আটকে পড়ে সাধারণ মানুষের জরুরি আবেদন ও সরকারি পরিষেবার সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া।

নবান্ন থেকে জারি করা এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো অভিযোগ নিস্পত্তি প্রক্রিয়াকে (Grievance Redressal Mechanism) সর্বোচ্চ স্তরে স্বচ্ছ ও গতিশীল করে তোলা। মানুষ যাতে তাঁদের সমস্যা নিয়ে ওপরতলার মহলে দৌড়াদৌড়ি না করে স্থানীয় স্তরেই সমাধান পান, তা সুনিশ্চিত করতেই নবান্নের এই কড়া বার্তা।

সপ্তাহে দু'দিন করে মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০:৩০টা থেকে ১টা পর্যন্ত সরকারি অফিসারদের 'জনতার দরবার'-এ উপস্থিত থাকার এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য এক বিরাট স্বস্তির খবর। প্রশাসনের এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষ ও সরকারি ব্যবস্থার মধ্যে দূরত্ব অনেকাংশেই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe