শুক্রবার ভোরে খরগপুরের বাসভবন থেকে তৃণমূল নেতা অজিত মাইতিকে নিয়ে গেল পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডেবরা থানায় পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অজিত মাইতি পিংলার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি। কী মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। প্রাথমিক ভাবে পুরনো একটি মামলার কথা জানা গেলেও মামলার ধারা বা ঘটনার বিবরণ প্রকাশ্যে আসেনি।

জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে খরগপুরের বাসভবনেই ছিলেন অজিত। শুক্রবার ভোরে সেখানে পৌঁছয় পুলিশ। কিছুক্ষণ পর তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে ডেবরা থানায় পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
অজিত মাইতির রাজনৈতিক পরিচয় দীর্ঘ দিনের। তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে যুক্ত তিনি। অবিভক্ত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দলের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। পরে পিংলা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে জিতে বিধায়ক হন। বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরেও তাঁকে দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে দেখা গিয়েছিল।
তাঁর গ্রেপ্তারের খবর সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে, ঠিক কোন ঘটনার জেরে এত দিনের পুরনো মামলায় নতুন করে পদক্ষেপ করল পুলিশ। তদন্তকারীদের তরফে এখনও প্রকাশ্যে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে মামলাটি কী, কবে সেই ঘটনা ঘটেছিল বা অজিতের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
অন্য দিকে, পুরো ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছে তৃণমূল। দলের রাজ্য সম্পাদক প্রদ্যুত ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁরা শুনেছেন পুরনো মামলায় অজিতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, শুক্রবার কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথা ছিল অজিতের। তার আগেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময়কে সামনে রেখে অজিতের গ্রেপ্তারের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
{{/usCountry}}অন্য দিকে, পুরো ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছে তৃণমূল। দলের রাজ্য সম্পাদক প্রদ্যুত ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁরা শুনেছেন পুরনো মামলায় অজিতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, শুক্রবার কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথা ছিল অজিতের। তার আগেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময়কে সামনে রেখে অজিতের গ্রেপ্তারের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
{{/usCountry}}তবে তৃণমূলের এই অভিযোগের পক্ষে এখনও কোনও স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। পুলিশ কেন অজিতকে গ্রেপ্তার করল, কোন মামলায় তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং সেই মামলার বর্তমান অবস্থাই বা কী, তা স্পষ্ট হলে বিষয়টি নিয়ে আরও পরিষ্কার ছবি পাওয়া যাবে।
এখন নজর রয়েছে ডেবরা থানার তদন্ত এবং মামলার নথির দিকে। অজিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না, আদালতে তাঁকে কখন তোলা হবে এবং তদন্তকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগের কথা জানাবেন, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। পুরনো মামলার সূত্র ধরে হওয়া এই গ্রেপ্তারিকে ঘিরে পশ্চিম মেদিনীপুরে যে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে।