দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে ফের এক প্রাক্তন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিল পুলিশ। জমি সংক্রান্ত দুর্নীতি এবং তোলাবাজির অভিযোগে মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় শালবনি থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে উঠেছে।

পুলিশ সূত্রের দাবি, সম্প্রতি সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত একটি বড় জালিয়াতি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে কিছু তথ্য-প্রমাণ হাতে আসার পরই প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। শনিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে শালবনি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তদন্তকারী আধিকারিকরা তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানাতে পারেন বলেও সূত্রের খবর।
একসময় মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন সুজয় হাজরা। দীর্ঘদিন ধরে জেলার রাজনীতিতে তিনি প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফলে তাঁর গ্রেপ্তারি রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েকদিন আগেই বালি মাফিয়া সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন কেশিয়াড়ির তৃণমূল নেত্রী কল্পনা শিট। সেই সময় তদন্ত চলাকালীন প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সুজয় হাজরা-সহ একাধিক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার নাম উল্লেখ করেছিলেন। কেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তুলেছিলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেই ঘটনার পরপরই সুজয় হাজরার গ্রেপ্তারি নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে।
রাজ্য সরকারের তরফে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি। সেই প্রেক্ষাপটে গত কয়েক সপ্তাহে তোলাবাজি, দুর্নীতি এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে একাধিক তৃণমূল নেতা, কাউন্সিলর ও প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সুজয় হাজরার গ্রেপ্তার সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
{{/usCountry}}রাজ্য সরকারের তরফে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি। সেই প্রেক্ষাপটে গত কয়েক সপ্তাহে তোলাবাজি, দুর্নীতি এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে একাধিক তৃণমূল নেতা, কাউন্সিলর ও প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সুজয় হাজরার গ্রেপ্তার সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
{{/usCountry}}তবে এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সম্পাদক প্রদ্যোৎ ঘোষ দাবি করেছেন, বিজেপি সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিরোধী দলের নেতাদের নিশানা করছে। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, এই ঘটনার বিরুদ্ধে দল আইনি এবং রাজনৈতিক—দুই স্তরেই লড়াই চালাবে।
অন্যদিকে, প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তারি নিয়ে বিস্তারিত কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত চলছে এবং অভিযোগের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সুজয় হাজরার গ্রেপ্তারির পর পশ্চিম মেদিনীপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না এবং এই মামলায় আরও কারও নাম জড়ায় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনের।