প্রায় দুই দশক পর আবার কলকাতায় ফিরলেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শুক্রবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে তিনি বলেন, 'এখানে এসে আমার খুব ভালো লাগছে।' ২০০৭ সালের পর এই প্রথম প্রকাশ্যে কলকাতায় দেখা গেল তাঁকে। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে যেমন সাহিত্য ও সংস্কৃতি মহলে উৎসাহ তৈরি হয়েছে, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।

তসলিমা নাসরিন একসময় বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হয়ে কলকাতাকেই নিজের বাসস্থান হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তবে তাঁর বিতর্কিত আত্মজীবনী ‘দ্বিখণ্ডিত’ প্রকাশের পর তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে তাঁকে ২০০৭ সালে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। এরও আগে, ২০০৩ সালে তৎকালীন রাজ্য সরকার ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে বইটি নিষিদ্ধ করেছিল। বর্তমানে ৬৩ বছরের এই লেখিকা দিল্লিতে দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক অনুমতি নিয়ে বসবাস করছেন।
কলকাতায় ফিরে নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে তসলিমা বলেন, তিনি কোনও দিনই স্বেচ্ছায় কলকাতা ছেড়ে যাননি। তাঁর দাবি, তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারই তাঁকে রাজ্য ছাড়তে বাধ্য করেছিল। তবে তিনি কখনও আশা ছাড়েননি যে একদিন আবার এই শহরে ফিরতে পারবেন। তাঁর কথায়, 'বছরের পর বছর কেটে গিয়েছে, সরকার বদলেছে, কিন্তু এতদিন সেই দরজা আর খোলেনি।'
শনিবার কলকাতার রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদের বিরুদ্ধে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তসলিমার। আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, ওই অনুষ্ঠানে তিনি কবিতা পাঠ করবেন এবং আলোচনাতেও অংশ নেবেন। পাশাপাশি তাঁকে নাগরিক সংবর্ধনাও দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিশিষ্ট সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তসলিমার এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও তুঙ্গে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক আখরুজ্জামান অভিযোগ করেছেন, তসলিমা নাসরিন বারবার মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন বলেই বর্তমান ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার তাঁকে স্বাগত জানাচ্ছে। তাঁর মতে, এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।
{{/usCountry}}তসলিমার এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও তুঙ্গে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক আখরুজ্জামান অভিযোগ করেছেন, তসলিমা নাসরিন বারবার মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন বলেই বর্তমান ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার তাঁকে স্বাগত জানাচ্ছে। তাঁর মতে, এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।
{{/usCountry}}অন্যদিকে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল তসলিমার প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আগের সরকারের আমলে লেখিকাকে কখনও কলকাতায় ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, যারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলত, তারাই তসলিমাকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। অগ্নিমিত্রা দাবি করেন, বর্তমান সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেয় এবং তসলিমার কলকাতায় ফিরে আসা বাংলার জন্য গর্বের বিষয়।
বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মকে অবমাননার অভিযোগে একসময় তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। এরপর থেকেই তাঁকে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর কলকাতায় তাঁর প্রত্যাবর্তন তাই শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত সফর নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাহিত্য, রাজনীতি এবং ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে আলোচনারও কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। তাঁর এই সফর ঘিরে আগামী কয়েকদিন রাজ্যের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে জোর চর্চা চলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।