দশমীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে একটি গাড়ি ঘিরে ছড়াল আতঙ্ক। গাড়ির ভিতরে সন্দেহজনক রাসায়নিক এবং বিস্ফোরক জাতীয় বস্তু থাকার খবর পেয়ে তল্লাশিতে নামে পুলিশ। পরে তদন্তে যোগ দেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনী এনএসজি এবং ফরেন্সিক দলের সদস্যেরা। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে স্থানীয় বাইকের শোরুমের মালিক রাকিবুল ইসলামকে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী কোথা থেকে এল, কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং এর পিছনে কোনও নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
কী ভাবে সামনে এল ঘটনা?

পুলিশ সূত্রে খবর, দত্তপুকুরের তেঁতুলতলা এলাকায় একটি গাড়িতে সন্দেহজনক জিনিসপত্র মজুত থাকার খবর আগে থেকেই ছিল রাজ্য পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফের কাছে। সেই সূত্র ধরেই গাড়িটির উপর নজরদারি শুরু হয়। বুধবার, ২১ অক্টোবর রাতে গাড়িটি আটক করে পুলিশ। গাড়ির মালিক রাকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের খবর, গাড়িটি তেঁতুলতলা রোডের একটি বাইকের শোরুমের কাছে প্রায় দু'দিন ধরে দাঁড় করানো ছিল। গাড়িতে সন্দেহজনক সামগ্রী থাকার খবর ছড়াতেই তল্লাশি শুরু হয়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী দেখে তদন্তকারীরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। পরে তল্লাশিতে যোগ দেন এনআইএ, এনএসজি এবং ফরেন্সিক দলের সদস্যেরা।
গাড়িতে কী ছিল?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়ি থেকে বিস্ফোরক জাতীয় বস্তু, বিভিন্ন রাসায়নিক এবং লোহার জালকাঠির মতো সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। তবে ঠিক কোন ধরনের বিস্ফোরক পাওয়া গিয়েছে এবং সেগুলির কার্যক্ষমতা কতটা, তা এখনও নিশ্চিত নয়। উদ্ধার হওয়া রাসায়নিকগুলির প্রকৃতি জানার জন্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, গাড়িতে থাকা সামগ্রী কলকাতার দিকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কলকাতার ঠিক কোন জায়গায় সেগুলি পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, তা এখনও জানা যায়নি। এই সামগ্রী পরিবহণের পিছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
{{/usCountry}}প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, গাড়িতে থাকা সামগ্রী কলকাতার দিকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কলকাতার ঠিক কোন জায়গায় সেগুলি পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, তা এখনও জানা যায়নি। এই সামগ্রী পরিবহণের পিছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
{{/usCountry}}বারাসত পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার এম মার্সি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক ঠিক কী ধরনের, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির পরেই আরও তথ্য সামনে আসবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
পুরনো ঘটনার সঙ্গে যোগ রয়েছে?
রাকিবুলের ব্যবসা নিয়েও খোঁজ নিচ্ছেন তদন্তকারীরা। প্রায় দশ বছর আগে গাড়ি মেরামতির কাজ ছেড়ে বাইকের শোরুমের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। বর্তমানে দত্তপুকুর, বিড়া এবং দেগঙ্গার বেড়াচাঁপা-সহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর চারটি শোরুম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের নজরে এসেছে আরও একটি বিষয়। কয়েক বছর আগে আমডাঙায় একটি বাইকের শোরুমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। সেই শোরুমের মালিকও রাকিবুল ছিলেন বলে সূত্রের দাবি। তবে আগের বিস্ফোরণের সঙ্গে সম্প্রতি গাড়ি থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও প্রমাণিত নয়। দুই ঘটনার মধ্যে কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় আরও কেউ যুক্ত রয়েছেন কি না, উদ্ধার হওয়া সামগ্রী কোথা থেকে এল এবং কার নির্দেশে তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে পুলিশ। নাশকতার কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাড়িতে বিস্ফোরক রাখার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।