...
...
Next Story

Fake Homeopathy Doctors in WB: রাজ্যজুড়ে জাল হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের অভিযোগ, ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের ফাঁদে সাধারণ মানুষ

নিয়ম অনুযায়ী, কাউন্সিল অফ হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন, ওয়েস্ট বেঙ্গল এবং ন্যাশনাল কমিশন ফর হোমিওপ্যাথির অনুমোদন ছাড়া রাজ্যে কোনও হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানো যায় না। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার দায়িত্বও নির্দিষ্ট সংস্থার হাতে।

Published on: Sep 14, 2026, 10:03:51 IST
Advertisement

অ্যালোপ্যাথির পর এবার রাজ্যজুড়ে জাল হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক এবং ভুঁইফোড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ সামনে এল। অভিযোগ, কোনও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা বা অনুমোদন ছাড়াই কোথাও কোথাও হোমিওপ্যাথির ডিগ্রি এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি দিয়েছে কাউন্সিল অফ হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন, ওয়েস্ট বেঙ্গল।

অ্যালোপ্যাথির পর এবার রাজ্যজুড়ে জাল হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক এবং ভুঁইফোড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ সামনে এল।
অ্যালোপ্যাথির পর এবার রাজ্যজুড়ে জাল হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক এবং ভুঁইফোড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ সামনে এল।

নিয়ম অনুযায়ী, কাউন্সিল অফ হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন, ওয়েস্ট বেঙ্গল এবং ন্যাশনাল কমিশন ফর হোমিওপ্যাথির অনুমোদন ছাড়া রাজ্যে কোনও হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানো যায় না। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার দায়িত্বও নির্দিষ্ট সংস্থার হাতে। কিন্তু অভিযোগ, সেই নিয়মকে উপেক্ষা করেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক বেআইনি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

সম্প্রতি ‘বায়োকেমিক হোমিও ইন্সটিটিউট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের খোঁজ মিলেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের। অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ওই সংগঠনের নামে ২৩টি প্রতিষ্ঠান চালু করা হয়েছে। সেখানে অনুমোদন ছাড়াই হোমিওপ্যাথি পড়ানো হচ্ছে এবং পড়ুয়াদের ডিগ্রি ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

কাউন্সিল অফ হোমিওপ্যাথিক মেডিসিনের রেজিস্ট্রার ডা. মিঠুন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এই প্রতিষ্ঠানের মূল অফিস কোচবিহারে। বিষয়টি জানার পর কোচবিহারের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে অবহিত করা হয়। এরপর ঘুঘুডাঙায় ওই প্রতিষ্ঠানের অফিসে তালা ঝোলানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার পাশাপাশি ক্যানিং, সোনারপুর, হাবড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরেও একই ধরনের প্রতিষ্ঠানের সন্ধান মিলেছে বলে অভিযোগ।

ঘটনার পর রাজ্যের প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে সতর্ক করা হয়েছে। বিষয়টি জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা ন্যাশনাল কমিশন ফর হোমিওপ্যাথিকেও। পাশাপাশি লালবাজারের যুগ্ম কমিশনারকেও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলে কাউন্সিল সূত্রে খবর। অর্থাৎ বিষয়টিকে শুধু শিক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম নয়, সম্ভাব্য প্রতারণা এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

এর মধ্যেই আরও একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, কোনও প্রকৃত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর নকল করে অন্য জায়গায় চেম্বার খোলা হয়েছে। টালিগঞ্জের রিজেন্ট পার্ক এলাকার এক প্রবীণ চিকিৎসক কাউন্সিলে অভিযোগ করে জানিয়েছেন, তাঁর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে নদিয়ায় অন্য এক ব্যক্তি চিকিৎসা করছেন।

এই ধরনের ঘটনায় সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। ভুয়ো প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে কেউ চিকিৎসার কাজে বসে পড়লে রোগীরা বুঝতেই পারেন না তিনি আদৌ বৈধ চিকিৎসক কি না। ভুল চিকিৎসা বা ভুল পরামর্শের ফলে রোগীর স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।

তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে বুঝবেন, চিকিৎসক আসল না ভুয়ো? দ্য হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার সাধারণ সম্পাদক কাকলী বন্দ্যোপাধ্যায় কুণ্ডুর পরামর্শ, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর রয়েছে কি না, তা অবশ্যই দেখতে হবে। এরপর কাউন্সিল অফ হোমিওপ্যাথিক মেডিসিনের ওয়েবসাইটে থাকা ‘প্র্যাকটিশনার লিস্ট’-এ সেই নম্বর বা চিকিৎসকের নাম মিলিয়ে দেখা যেতে পারে।

ফলে চিকিৎসা নেওয়ার আগে শুধু সাইনবোর্ড, ডিগ্রি বা চেম্বারের পরিচয় দেখে ভরসা না করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বৈধ রেজিস্ট্রেশন যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। রাজ্যজুড়ে ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠান এবং জাল চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়ানো জরুরি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks