অবশেষে স্বস্তির খবর। ফরাক্কায় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইনের মেরামতির কাজ শেষ। নতুন করে মাটি ও স্টোন চিপস দিয়ে শক্ত করা হয়েছে লাইনের নীচের অংশ। ইনস্পেকশন কার দিয়ে একাধিক বার ট্রায়াল রানও হয়েছে। এমনকি একটি যাত্রীবাহী ট্রেনও ওই লাইন দিয়ে ধীরে পার করানো হয়েছে বলে রেল সূত্রে খবর।

সব ঠিক থাকলে শনিবার রাত থেকেই উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে ট্রেন চলাচল ফের স্বাভাবিক হতে পারে। তবে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারছে না রেল। কারণ, একটানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে রয়েছে। তাই যাত্রীবাহী ট্রেন পুরোদমে চালানোর আগে অপেক্ষা করা হচ্ছে রেল সেফটি কমিশনারের সবুজ সঙ্কেতের জন্য।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতেই সেফটি কমিশনারের আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে যাবেন। তাঁরা গোটা এলাকা পরিদর্শন করবেন। মেরামতির কাজ কতটা নিরাপদ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখবেন। তাঁদের ছাড়পত্র মিললেই স্বাভাবিক গতিতে ট্রেন চালানো শুরু হবে।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ চালানো হয়েছে। শনিবারই ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে কখন থেকে ট্রেন ছুটবে, তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার ভোরে টানা বৃষ্টির জেরে ফরাক্কায় রেললাইনের নীচে প্রায় ছয় ফুট মাটি ধসে যায়। বিপজ্জনক হয়ে পড়ে ট্র্যাক। সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় মেরামতির কাজ। প্রায় ১৫০ জন রেলকর্মী ও ইঞ্জিনিয়ার দিনরাত কাজ করেন। ৫৩ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে সেই যুদ্ধকালীন তৎপরতা।
ধসের কারণে শনিবারও একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতামুখী বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে সরাইঘাট এক্সপ্রেস, উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, দার্জিলিং মেল, পদাতিক এক্সপ্রেস, হামসফর এক্সপ্রেস, তেভাগা এক্সপ্রেস এবং তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেস-সহ একাধিক ট্রেন।
{{/usCountry}}ধসের কারণে শনিবারও একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতামুখী বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে সরাইঘাট এক্সপ্রেস, উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, দার্জিলিং মেল, পদাতিক এক্সপ্রেস, হামসফর এক্সপ্রেস, তেভাগা এক্সপ্রেস এবং তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেস-সহ একাধিক ট্রেন।
{{/usCountry}}বহু ট্রেন আবার ঘুরপথে চালানো হচ্ছে। তবে কলকাতা বা শিয়ালদহ থেকে উত্তরবঙ্গমুখী কোনও ট্রেন এখনও বাতিল হয়নি বলে খবর।
এদিকে দীর্ঘক্ষণ ট্রেন আটকে থাকায় সমস্যায় পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। তাঁদের জল ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্য সরকার উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত বাসও চালিয়েছে। কিন্তু যাত্রীর বিপুল চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
ট্রেন পরিষেবা বন্ধ থাকায় বাড়তি চাপ পড়েছে বিমান পরিষেবাতেও। কলকাতা-বাগডোগরা রুটে বিমানের ভাড়া হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দামে টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে দাবি যাত্রীদের। বেসরকারি বাসের ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কলকাতা-শিলিগুড়ি রুটে সরকারি বাস বাড়ানো হয়েছে। দুর্গাপুর-বালুরঘাট, কলকাতা-বালুরঘাট এবং মালদহ-কলকাতা রুটেও বাড়ানো হয়েছে পরিষেবা। কিন্তু উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা রেল। ফলে ট্রেন বন্ধ থাকায় বিকল্প পরিবহণেও চাপ বেড়েছে।
এক যাত্রীর কথায়, ধীর গতিতে তাঁদের ট্রেনকে মেরামত করা অংশ পার করানো হয়েছিল। তবে তাঁর আশঙ্কা, ভারী বৃষ্টিতে মাটি এখনও নরম। ফের ধস নামার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই রেল বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে। এখন তাই অপেক্ষা রেল সেফটি কমিশনারের ছাড়পত্রের। সবুজ সঙ্কেত মিললেই হয়তো শনিবার রাত থেকেই ফের ছুটবে উত্তরবঙ্গের ট্রেন। ফিরবে স্বাভাবিক ছন্দ।