ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায় এবং বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল-সহ মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কালীতলা আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন লোকসভা প্রার্থী অভিজিৎ বিশ্বাস ওরফে ববি।

অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক বছরে ধাপে ধাপে প্রায় ১৬৩ বিঘা জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করা হয়েছে। এর ফলে ৩০০ কোটিরও বেশি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপি নেতার। এফআইআরের সঙ্গে অভিযোগের সমর্থনে একাধিক স্যাটেলাইট ছবিও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওই ছবিগুলির ভিত্তিতে অভিযোগকারীর দাবি, নির্দিষ্ট এলাকায় ব্যাপক হারে মাটি কাটা হয়েছে এবং তার ফলে ভূমির স্বাভাবিক গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিজেপি নেতা অভিজিৎ বিশ্বাসের অভিযোগ, ২০১৭ সাল থেকেই এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজ চলছিল। ২০২২ ও ২০২৩ সালে সেই কার্যকলাপ আরও বৃদ্ধি পায়। বিষয়টি নিয়ে এর আগেও স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কোনও কার্যকর তদন্ত হয়নি বলে তাঁর দাবি। সেই কারণেই নতুন তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করে পুনরায় থানার দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
অভিজিৎ বিশ্বাস বলেন, “সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তো এখানকার ভূমিপুত্র নন। মাটির মূল্য উনি কী বুঝবেন? দীর্ঘদিন ধরে এখানে মাটি কেটে চোরাপথে বিক্রি করা হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কোথায় কোথায় ভূমিক্ষয় ঘটেছে। এর ফলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ভবিষ্যতে স্থানীয় মানুষদের ভূমিক্ষয় ও অন্যান্য পরিবেশগত সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে পারে।”
{{/usCountry}}অভিজিৎ বিশ্বাস বলেন, “সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তো এখানকার ভূমিপুত্র নন। মাটির মূল্য উনি কী বুঝবেন? দীর্ঘদিন ধরে এখানে মাটি কেটে চোরাপথে বিক্রি করা হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কোথায় কোথায় ভূমিক্ষয় ঘটেছে। এর ফলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ভবিষ্যতে স্থানীয় মানুষদের ভূমিক্ষয় ও অন্যান্য পরিবেশগত সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে পারে।”
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, এর আগেও আমফান-পরবর্তী ত্রাণসামগ্রী সংক্রান্ত একটি অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন অভিজিৎ বিশ্বাস। ২০২০ সালে দুর্গতদের জন্য আনা ত্রিপল বেআইনিভাবে তৃণমূলের পার্টি অফিসে মজুত রাখার অভিযোগ তুলে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই ঘটনায় প্রায় ২৫০ কোটির টাকার দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছিল।
নতুন করে দায়ের হওয়া এই মাটি কাটার মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।