নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বঙ্গবিভূষণ সম্মান হারানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আরও বিপাকে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ। এবার তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল কোচবিহার জেলা পুলিশ। স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছিলেন অনন্ত মহারাজ। অভিযোগ, তিনি দাবি করেছিলেন, ভারতের স্বাধীনতা অর্জনে নেতাজির কোনও ভূমিকা ছিল না। শুধু তাই নয়, আজাদ হিন্দ ফৌজ নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
এই মন্তব্যের জেরেই বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকার তাঁর বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার অনন্ত মহারাজকে বঙ্গবিভূষণ দিয়েছিল। রাজ্যের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান হিসেবে পরিচিত এই পুরস্কার প্রত্যাহার করে নবান্ন জানায়, অনন্ত মহারাজের কিছু কার্যকলাপ পর্যালোচনা করে সরকারের মনে হয়েছে, তাঁর কাছে এই সম্মান থাকা বঙ্গবিভূষণের মর্যাদা ও প্রতিপত্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সম্মান হারানোর পর রাতেই অবশ্য সুর নরম করেন অনন্ত মহারাজ। সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ১৭ সেকেন্ডের ভিডিয়োবার্তায় তিনি নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নেতাজি সম্পর্কে তাঁর কিছু অনিচ্ছাকৃত বক্তব্যে কেউ মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
তবে এই দুঃখপ্রকাশের পরও তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ থামেনি। কোচবিহারের পুলিশ সুপার মণীশ জোশী জানিয়েছেন, গত ৭ অগস্ট কোচবিহারের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। নেতাজিকে নিয়ে তাঁর মন্তব্যের ভিত্তিতেই সেই অভিযোগ করা হয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে এখন এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ।
{{/usCountry}}তবে এই দুঃখপ্রকাশের পরও তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ থামেনি। কোচবিহারের পুলিশ সুপার মণীশ জোশী জানিয়েছেন, গত ৭ অগস্ট কোচবিহারের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। নেতাজিকে নিয়ে তাঁর মন্তব্যের ভিত্তিতেই সেই অভিযোগ করা হয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে এখন এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ।
{{/usCountry}}ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে, বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহারের পরেও কি অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে আরও আইনি পদক্ষেপ হবে? রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য আগেই জানানো হয়েছে, নেতাজিকে নিয়ে আপত্তিকর বা অবমাননাকর মন্তব্য কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এর আগে স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, নেতাজিকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট বা মন্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর নির্দেশে রাজ্য পুলিশের সাইবার সেলও সক্রিয় হয়েছে। বিভিন্ন সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ধরনের অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, কোনও ব্যক্তি আপত্তিকর পোস্ট মুছে ফেললেও আইন থেকে রেহাই পাবেন না। অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও স্পষ্ট করেছিলেন— কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন।
ফলে বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহার, প্রকাশ্য দুঃখপ্রকাশ এবং তার পরই এফআইআর—গত ২৪ ঘণ্টায় পরপর তিনটি ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রে অনন্ত মহারাজ। এখন তদন্তে তাঁর বক্তব্যের আইনি দায় কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়, সেটাই দেখার। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরও কোনও পদক্ষেপ করা হয় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে।