Baisakhi Banerjee on Firhad Hakim: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের আলোচনার কেন্দ্রে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন দুই মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) ও শোভন চট্টোপাধ্যায় (Sovan Chatterjee)। মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা ঘিরে পুরনো বিতর্ক নতুন করে উসকে উঠতেই শুরু হয়েছে দু’পক্ষের বাগ্যুদ্ধ। কেন রাজ্যপাঠ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন ববি, তা নিয়ে যেমন একদিকে প্রশ্ন তুলেছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়, তারই পাল্টা জবাবে ফিরহাদ হাকিম তাঁকে ভাঁড় বলে কটাক্ষ করেছেন। শুধু তাই নয়, ফিরহাদ হাকিমের মন্তব্য, ‘নিজের প্রেমের জন্য’ পুরসভা ছেড়ে তিনি পালিয়ে যাননি। শোভন চট্টোপাধ্যায়কে এই ভাষায় আক্রমণ করতেই এবার ফিরহাদ হাকিমকে পাল্টা নিশানা করলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Baisakhi Banerjee)।
বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য

সংবাদমাধ্যম টিভি৯ বাংলার সাক্ষাৎকারে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) সঙ্গে পরিচয় হওয়া সবথেকে বিড়ম্বনার। শুধু তাই নয়, ফিরহাদকে ‘আপদ’ বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি। বৈশাখীর বক্তব্য, 'যে ভাষায় ববি দা কথা বলেছে, এটাই ওঁর কৃষ্টি। শোভনের কারণে ওঁর মতো মানুষের সঙ্গে পরিচয় হওয়া আমার জীবনে সবথেকে বড় বিড়ম্বনার কারণ ছিল। শোভন আমাকে যে সমস্ত আপদকে গিফ্ট করেছে, যাঁদেরকে আমার সারাজীবন বয়ে নিয়ে যেতে হবে, এই অসভ্য, গা ঘিনঘিনে কথাবার্তা, তাঁদের মতো উনি অন্যতম। সেটা আমি এই সম্পর্কে ধরে নিয়েই এগিয়েছি। তাই নতুন করে অবাক হই না, নতুন করে আঘাত লাগে না।'
শোভন চট্টোপাধ্যায়ের আক্রমণ
রাজ্যে পালাবদলের পরিস্থিতিতে ফিরহাদ হাকিমের জায়গায় থাকলে কী করতেন শোভন চট্টোপাধ্যায়? এই প্রশ্নের উত্তরে টিভি৯ বাংলাকে প্রাক্তন মেয়র বলেন, 'ফিরহাদ হাকিম রাজ্যপাঠ ছেড়ে চলে গেলেন কেন? কী কারণে? বলে দিলেন ঢাল নেই তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দার?…ঢালও ছিল, তরোয়ালও ছিল। ডিটারমিনেশন ছিল না। সেই দৃঢ়তার অভাবেই উনি ছেড়ে পালিয়েছেন।'
কী বলেছিলেন ফিরহাদ হাকিম?
শোভন চট্টোপাধ্যায়ের প্রশ্নের জবাবে ফিরহাদ হাকিম বলেন, 'ফিরহাদ হাকিম পালিয়ে যায়নি। আমাকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। সম্মানহানি হচ্ছিল। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞেস করে ইস্তফা দিয়েছি। আর কেন ছাড়ছি তা সাংবাদিক বৈঠক করেও জানিয়েছি। সুতরাং আমি যখন দরকার হয় বিজেপি করব, যখন দরকার হয় তৃণমূল করব তা আমি করি না। আমি তৃণমূলে আছি ও থাকব। আর শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মতো মানুষের জবাব দেওয়া, যে নিজের পরিবারেরই হতে পারেনি, সে আবার মানুষের সঙ্গে কোথা থেকে থাকবে?' ফিরহাদের বক্তব্য, কাজ করার সুযোগ ও প্রশাসনিক সহযোগিতা না থাকলে পদ আঁকড়ে থাকার কোনও অর্থ নেই।
{{/usCountry}}শোভন চট্টোপাধ্যায়ের প্রশ্নের জবাবে ফিরহাদ হাকিম বলেন, 'ফিরহাদ হাকিম পালিয়ে যায়নি। আমাকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। সম্মানহানি হচ্ছিল। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞেস করে ইস্তফা দিয়েছি। আর কেন ছাড়ছি তা সাংবাদিক বৈঠক করেও জানিয়েছি। সুতরাং আমি যখন দরকার হয় বিজেপি করব, যখন দরকার হয় তৃণমূল করব তা আমি করি না। আমি তৃণমূলে আছি ও থাকব। আর শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মতো মানুষের জবাব দেওয়া, যে নিজের পরিবারেরই হতে পারেনি, সে আবার মানুষের সঙ্গে কোথা থেকে থাকবে?' ফিরহাদের বক্তব্য, কাজ করার সুযোগ ও প্রশাসনিক সহযোগিতা না থাকলে পদ আঁকড়ে থাকার কোনও অর্থ নেই।
{{/usCountry}}এই বিতর্কের পিছনে রয়েছে কলকাতা পুরসভার মেয়র পদের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে শোভন চট্টোপাধ্যায় মেয়র পদ ছাড়ার পর ফিরহাদ হাকিম সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন কলকাতা পুরসভার নেতৃত্ব দেওয়ার পর ২০২৬ সালের জুন মাসে ফিরহাদও মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন। দুই প্রাক্তন মেয়রের এই সংঘাত শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আক্রমণেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক ক্ষমতা, দায়িত্ব পালনের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।