WB NIA Station Update: বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণের তদন্তের সূত্র ধরে ২০১৪ সালে প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে সক্রিয়ভাবে তদন্ত শুরু করেছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। সেই ঘটনার প্রায় এক যুগ পর রাজ্যে নিজেদের পৃথক থানা পেল কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। সম্প্রতি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গে এনআইএ থানার সূচনা হল। এর পাশাপাশি খুব শীঘ্রই এনআইএ-র জন্য পৃথক বিশেষ আদালতও গঠন করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কলকাতার লাগোয়া নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া-৩-এ অবস্থিত এনবিসিসি ভবনের ১৬ তলায় এনআইএ-র নতুন থানার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এই থানাই এখন থেকে গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এনআইএ-র সমস্ত মামলার নথিভুক্তিকরণ, তদন্ত-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাজ এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এতদিন রাজ্যে এনআইএ-র তদন্ত চললেও আলাদা থানা না থাকায় একাধিক প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে হত বলে সংস্থার দাবি।
জানা গিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলেও পশ্চিমবঙ্গে এনআইএ-র পৃথক থানা খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও অন্যান্য কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীতে রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই লক্ষ্যেই কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এনআইএ থানা গঠনের সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে থানার সূচনা হল।
শুধু থানা গঠনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না এই উদ্যোগ। এনআইএ-র মামলাগুলির দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গে একটি বিশেষ এনআইএ আদালতও গঠন করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুসারে এই আদালত প্রতিষ্ঠা করা হবে। আদালতটি কোথায় স্থাপন করা হবে, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কলকাতা হাই কোর্ট। এই বিশেষ আদালতে শুধুমাত্র এনআইএ-র তদন্তাধীন মামলাগুলির শুনানি হবে। ফলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগোবে এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলির নিষ্পত্তিও ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
{{/usCountry}}শুধু থানা গঠনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না এই উদ্যোগ। এনআইএ-র মামলাগুলির দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গে একটি বিশেষ এনআইএ আদালতও গঠন করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুসারে এই আদালত প্রতিষ্ঠা করা হবে। আদালতটি কোথায় স্থাপন করা হবে, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কলকাতা হাই কোর্ট। এই বিশেষ আদালতে শুধুমাত্র এনআইএ-র তদন্তাধীন মামলাগুলির শুনানি হবে। ফলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগোবে এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলির নিষ্পত্তিও ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
{{/usCountry}}জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে এনআইএ-র তদন্তাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি কার্যকলাপ, বিস্ফোরণ, আন্তঃরাজ্য অপরাধচক্র এবং জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত একাধিক মামলার তদন্ত এখন এনআইএ-র হাতে রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে পৃথক থানা ও বিশেষ আদালত গঠনের ফলে তদন্তের গতি যেমন বাড়বে, তেমনই আইনি প্রক্রিয়াও আরও সুসংহত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গে এনআইএ-র নিজস্ব থানা চালু হওয়া কেন্দ্রীয় তদন্ত কাঠামোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তদন্ত, মামলা রুজু, নথিপত্র সংরক্ষণ এবং আদালতে চার্জশিট দাখিল—সব ক্ষেত্রেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ আদালতও চালু হলে রাজ্যে এনআইএ-র তদন্তাধীন মামলাগুলির বিচার আরও দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।