Jalpaiguri Elephant Calf Rescue: তিস্তার প্রবল জলস্রোতে ভেসে যাওয়া একটি সদ্যজাত হস্তিশাবককে মৃত্যুর মুখ থেকে ছিনিয়ে এনে নিরাপদে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিলেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা (Elephant Calf Rescue)। সোমবার সকালে জলপাইগুড়ির গজলডোবা এলাকায় ঘটা এই মানবিক ও রোমহর্ষক ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই গোটা রাজ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মৎস্যজীবীদের এই সাহসিকতা এবং বন দফতরের যৌথ উদ্যোগে একটি বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেল নতুন প্রাণের স্পন্দন।

ঘটনাটি মালবাজার মহকুমার কাছে তিস্তা নদীর ১২ নম্বর স্পারের আশপাশে ঘটেছে। জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে একটি মা হাতি তার শাবকটিকে সঙ্গে নিয়ে তিস্তা নদী পারাপার করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু নদীর জলস্তর অতিরিক্ত বেশি থাকায় এবং স্রোতের তীব্রতা প্রচণ্ড হওয়ায় আচমকাই জলের টানে ভেসে যায় শিশু হাতিটি। চোখের সামনে নিজের সন্তানকে সর্বগ্রাসী জলের স্রোতে ভেসে যেতে দেখে অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না মা হাতিটির। জলের তীব্র তোড়ে ভাসতে ভাসতে গজলডোবা থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে কাঠামবাড়ি এলাকার পাঞ্জাব বাঁধের কাছে ১২ নম্বর স্পার সংলগ্ন নদীতে এসে পৌঁছায় হস্তিশাবকটি। নদী চত্বরে উপস্থিত স্থানীয় মৎস্যজীবীদের নজরে আসে যে জলের মাঝে একটি ছোট্ট হাতি ভেসে চলেছে। স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে জলে টিকে থাকার চেষ্টা করছিল শাবকটি।
পরিস্থিতি দেখে নিজেদের নিরাপত্তার কথা না ভেবে নৌকা ঘুরিয়ে হাতিশাবকটির দিকে এগিয়ে যান সাহসী দুই মৎস্যজীবী। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে নৌকা নিয়ে সোজা তিস্তার প্রবল স্রোতের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রবল স্রোতের মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার নৌকা চালিয়ে শাবকটির পিছু নেন তাঁরা। দীর্ঘক্ষণ ধরে চরম প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে এক পর্যায়ে শাবকটিকে নৌকায় তুলে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসতে সক্ষম হন। উদ্ধারের পর ঘটনাটি স্থানীয় বন দফতরকে জানানো হয়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে আসে বন দফতরের আমবাড়ি রেঞ্জ, শালুগাড়া রেঞ্জ, বেলাকোবা রেঞ্জ, আপালচাঁদ রেঞ্জ এবং তারগাড়া রেঞ্জের কর্মীরা। উদ্ধারের পর পরই শাবকটিকে প্রথমে কাঠামবাড়ি রেঞ্জ অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বনকর্মীরা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে শিশুটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। অন্যদিকে, বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গল জুড়ে শুরু হয় শাবকটির আসল মায়ের সন্ধান। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর যখন মা হাতিটির সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করা হয়, তখন বনকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শাবকটিকে তার মায়ের কাছাকাছি এলাকায় নিয়ে যান।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া এই হস্তিশাবকটির বয়স আনুমানিক মাত্র তিন থেকে চার দিন। মায়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর প্রায় দু’ঘণ্টা বাদে মা হাতিটি তার সন্তানকে খুঁজে পায়। মানুষের স্পর্শ লেগে থাকায় শাবকটিকে নিজের দলে ফিরিয়ে নেওয়ার আগে মায়াভরা স্নেহে নদী বা জলাশয়ের জলে তাকে ভালো করে স্নান করায় মা হাতিটি। এরপর নিজের সন্তানকে নিরাপদ দূরত্ব থেকে আগলে নিজের দলেই ফিরিয়ে নেয় সে। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নদী থেকে হস্তিশাবকটিকে বাঁচিয়ে তোলার জন্য ওই মৎস্যজীবীদের কুর্নিশ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরাও।
{{/usCountry}}বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া এই হস্তিশাবকটির বয়স আনুমানিক মাত্র তিন থেকে চার দিন। মায়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর প্রায় দু’ঘণ্টা বাদে মা হাতিটি তার সন্তানকে খুঁজে পায়। মানুষের স্পর্শ লেগে থাকায় শাবকটিকে নিজের দলে ফিরিয়ে নেওয়ার আগে মায়াভরা স্নেহে নদী বা জলাশয়ের জলে তাকে ভালো করে স্নান করায় মা হাতিটি। এরপর নিজের সন্তানকে নিরাপদ দূরত্ব থেকে আগলে নিজের দলেই ফিরিয়ে নেয় সে। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নদী থেকে হস্তিশাবকটিকে বাঁচিয়ে তোলার জন্য ওই মৎস্যজীবীদের কুর্নিশ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরাও।
{{/usCountry}}