...
...
Next Story

Falta Repoll: ‘তৃণমূলের হার-বার’ মডেল! ফলতার বিশাল জয়ের পর 'সেনাপতি'কে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর

Falta Repoll: ফলতার পুনর্নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পরই এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, 'কুখ্যাত ‘ডায়মন্ড হারবার’ মডেল পরিণত হল ‘তৃণমূলের হার-বার’ মডেলে।'

Published on: May 24, 2026, 19:48:45 IST
Advertisement

Falta Repoll: তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড হারবার মডেল নিয়ে দলের অন্দরে চোরাগোপ্তা ক্ষোভ ছিলই। ছাব্বিশের নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তা যেন আরও প্রকট হয়েছে। অভিষেকের ডায়মন্ড হারবার মডেল নিয়েও চলছে কাটাছেঁড়া। সেই ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভায় শেষ 'পুষ্পা-রাজ।' রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিকে, বাড়ি বসেই ফলতায় পরাজয়ের নেপথ্যে সেই 'রিগিং' তত্ত্বই আওড়ালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন

ফলতার বিশাল জয়ের পর 'সেনাপতি'কে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর (PTI)
ফলতার বিশাল জয়ের পর 'সেনাপতি'কে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর (PTI)

তৃণমূল প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোর পর ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের ভোটগণনায় কার্যত একতরফা ফলাফল ফুটে উঠেছে। রবিবার বিকেলে ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ভোটগণনা কেন্দ্রে ২২ রাউন্ড গণনার শেষে ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএম-এর শম্ভুনাথ কুড়মিকে পরাজিত করেছেন। বিজেপি প্রার্থী পেয়েছেন মোট ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৬৬টি ভোট। অন্যদিকে, সিপিএম প্রার্থী পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৫টি ভোট। তৃতীয় স্থানে থাকা কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা পেয়েছেন ১০ হাজার ৮৪টি ভোট। অন্যদিকে, তিনি বলেছিলেন ঝুঁকবেন না। কিন্তু ফলতার ফল বলছে, ঝুঁকেই যেতে হল ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির ‘পুষ্পা’ খানকে। ২২ রাউন্ড গণনার শেষে মাত্র ৭৭৮৩টি ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে রইলেন তিনি।

বলে রাখা প্রয়োজন, পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান নিজেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছিলেন। ফলস্বরূপ, গণনাকেন্দ্রে তৃণমূলের কোনও এজেন্টকেও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। এই জয়ের মাধ্যমে রাজ্যে বিজেপি-র মোট আসন সংখ্যা ২০৭ থেকে বেড়ে ২০৮ হয়েছে। তৃণমূল প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে বিরোধীশূন্য ময়দানে বিজেপি প্রার্থীর এই বিশাল ব্যবধানে জয় ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?

তৃণমূল কংগ্রেসের অতীত শাসনকালকে ‘মাফিয়া কোম্পানি’ হিসেবে অভিহিত করে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, এতদিন রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার করে সিন্ডিকেট রাজ ও ‘থ্রেট কালচার’ কায়েম করা হয়েছিল। তাঁর মতে, এতদিনকার দেড় লক্ষ ভোটের অলীক লিড আসলে ছিল প্রহসন, যা মানুষ নিজের ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা ফিরে পেতেই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উপহাস করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের সামনে নির্বাচনে ‘নোটা’-র বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে।' তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে ইতিমধ্যেই তৃণমূল ‘নোটা’-র কাছে পরাজিত হয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গেও সেই একই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করার অপেক্ষায় রয়েছেন রাজ্যবাসী। পাশাপাশি, বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডাকে অভিনন্দন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই জয় রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মোড়।

আস্ফালনের সুর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

এদিকে, ভোটের ফলপ্রকাশের পর এক্স হ্যান্ডেলে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আস্ফালনের সুর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি দাবি করেন, অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের কথা বললেও, তা হয়নি। গত ১০ দিন ধরে ফলতার অন্তত ১ হাজার তৃণমূল কর্মী ঘরছাড়া বলেও অভিযোগ তাঁর। তা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যবস্থা করেনি।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe