শনিবার মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ‘চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি’র মণ্ডপে ঘটে গেল চরম বিপর্যয়। মণ্ডপের বাইরে অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে দর্শনার্থীদের হুড়োহুড়িতে তৈরি হয় ভয়াবহ পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ১৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৫ জন। মৃতদের মধ্যে রয়েছে কোন্ননগরের সাত বছরের শিশুকন্যাও।

কী ঘটেছিল শনিবার সন্ধ্যায়?
কলকাতা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭:৪০ মিনিট নাগাদ গিরিশ পার্ক থানা এলাকার অন্তর্গত চোরবাগানের (সারদা পার্ক) মণ্ডপের এক্সিট গেটে এই অনভিপ্রেত ঘটনাটি ঘটে। দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইন চলাকালীন হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে বাইরের ভিড় আশ্রয় নেওয়ার জন্য আচমকা মণ্ডপের ভেতরের দিকে ছুটে আসার চেষ্টা করে। এতে একাধিক দর্শনার্থী রাস্তায় পড়ে যান এবং তাঁদের উপর দিয়ে ভিড় চলে গেলে এই মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরেই তড়িঘড়ি মণ্ডপটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ দ্রুত উদ্ধারকার্য চালিয়ে আহতদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (MCH) ভর্তি করে।
হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী:
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই তড়িঘড়ি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শরদ্বৎ মুখোপাধ্যায়। হাসপাতালে উপস্থিত থেকে আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তাঁরা।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া ও জরুরি হেল্পলাইন:
{{/usCountry}}প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া ও জরুরি হেল্পলাইন:
{{/usCountry}}চোরবাগানের এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ তীব্র শোক প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি লেখেন—'চোরাবাগান পুজো মণ্ডপে ঘটে যাওয়া পদপিষ্টের মতো ঘটনার খবর শুনে আমি গভীরভাবে স্তম্ভিত ও ব্যথিত। আহতদের সকলের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে আমি মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা জানাচ্ছি এবং এই কঠিন সময়ে তাঁদের পরিবারের মানুষদের ধৈর্য ও শক্তি দান করার প্রার্থনা করছি।'
একই সাথে সাধারণ মানুষ ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত স্বজনদের সহায়তার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি আলাদা জরুরি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে—
রাজ্য সরকারের হেল্পলাইন: ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮ (18003455678)
কলকাতা পুলিশের হেল্পলাইন: ০৩৩২২১৪১৩১০ (03322141310)
সমবেদনা রাজ্যপালের:
ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে রাজ্যপাল আর এন রবিও নিহতদের পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। পুজোর আবহেই আনন্দ উৎসবের মাঝে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা তিলোত্তমায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।