...
...
Next Story

TMC Internal Conflict: 'আমরা ছিলাম চাকর...,' তৃণমূলের ভরাডুবির পরই বিস্ফোরক প্রাক্তন জেলা সভানেত্রী

TMC Internal Conflict: পাপিয়া ঘোষ বলছেন, ২০২১ থেকে ২০২৬, এই পাঁচ বছর দল আর আগের মতো সিস্টেমে চলেনি। কোথাও যেন মনে হয়েছে গোটা দলটাই মালিক আর চাকরের হয়ে গিয়েছে।

Published on: May 06, 2026 01:44 PM IST
Advertisement

TMC Internal Conflict: পশ্চিমবঙ্গে ১৫ বছরের ঘাসফুল শাসনের অবসান হয়ে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট হতেই দেখা যাচ্ছে, বিপুল জনসমর্থন নিয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে গেরুয়া শিবির। আর বঙ্গে বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পরই তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র কোন্দল। হারের চোট সামলানোর আগেই এবার দলের অন্দরের ‘মালিক-চাকর’ সংস্কৃতি নিয়ে তোপ দাগলেন শিলিগুড়ির প্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভানেত্রী পাপিয়া ঘোষ। দাপুটে নেত্রীর এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

বিস্ফোরক তৃণমূলের দাপুটে নেত্রী

কী বলছেন পাপিয়া ঘোষ? (সৌজন্যে টুইটার)
কী বলছেন পাপিয়া ঘোষ? (সৌজন্যে টুইটার)

পাপিয়া ঘোষ বলছেন, ২০২১ থেকে ২০২৬, এই পাঁচ বছর দল আর আগের মতো সিস্টেমে চলেনি। কোথাও যেন মনে হয়েছে গোটা দলটাই মালিক আর চাকরের হয়ে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গে ঘাসফুল শিবিরের এই শোচনীয় ফলের জন্য দলের অন্দরে বেড়ে ওঠা সিন্ডিকেট-রাজ এবং নেতাদের দম্ভকেই দায়ী করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, 'তৃণমূলে আমরা ছিলাম চাকর। গত পাঁচ বছরে দল কোনও সিস্টেমে চলেনি। দল চলেছে শুধু মালিক আর চাকরের সমীকরণে। আমাদের কাজ ছিল কেবল দাসের মতো নির্দেশ মেনে চলা।' এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও বলেন, 'আমাদের তো কথা বলার জায়গাই ছিল না। যে এজেন্সি এসেছিল তাঁদের হয়তো যাঁরা মিষ্টির প্যাকেট দিতে পারতেন তাঁদের কথা উপরে যেত।' তাঁর মতে, বাংলার সাধারণ মানুষ তৃণমূলের মতো দলকে প্রত্যাখ্যান করেনি। প্রত্যাখ্যান করেছে দাম্ভিক, অহংকারী নেতাদের।

তৃণমূল নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ

এখানেই শেষ নয়, হারের পরেই ক্ষোভের আঁচ পৌঁছেছে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইপ্যাক পর্যন্ত। ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন তৃণমূল নেতারা। ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন শিলিগুড়িতে জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অত্রিদেও শর্মা। তাঁর দাবি, শওকত, জাহাঙ্গিরের মতো অপরাধীদের বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন অভিষেক। মানুষ এসব ভালোভাবে নেয়নি। পাশাপাশি নির্বাচনী কৌশলী সংস্থার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, 'আইপ্যাকের হাতে অসীম ক্ষমতা ছিল। রাজ্যস্তরের নেতারা কিছুই করতে পারছিলেন না। সবটাই ওদের কথায় চলত। ফলে সংগঠনের মধ্যে কোনও শৃঙ্খলা ছিল না। আইপ্যাক এবং কিছু নেতার দম্ভ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তারা ভেবেছিল যেভাবে খুশি ভোট করানো যাবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়াকড়ি এবং কমিশনের কড়া নজরদারিতে সেই ছক আর খাটেনি।' এদিকে, নির্বাচনী পর্যালোচনার আগে পাপিয়া ঘোষের এই ‘বিদ্রোহ’ শিলিগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গের তৃণমূল রাজনীতিতে বড়সড়ো ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দলের ভেতরে যারা এতদিন কোণঠাসা ছিলেন, হারের পর তাঁরা একে একে মুখ খুলতে শুরু করায় চরম অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe