...
...
Next Story

Indranil Sen: অস্বস্তি বাড়ল প্রাক্তন মন্ত্রীর! দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি কাণ্ডে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে ইন্দ্রনীল

Indranil Sen: শুনানি চলাকালীন সরকারি আইনজীবী অভিজিৎ চট্টোপাধ‍্যায় আদালতে স্পষ্ট দাবি করেন, এই মামলাটি আদতে প্রতারণা এবং জালিয়াতির। ২০২৫ সালে ইউনেস্কোর সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল মাস আর্ট সংস্থার। কিন্তু ব‍্যবসায়িক বা আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে ইউনেস্কোর লোগো ব‍্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছিল তাদের তরফে।

Published on: Oct 29, 2026, 18:00:44 IST
Advertisement

Indranil Sen: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির (Durga Puja pass scam) মামলায় নাম জড়িয়েছিল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের। বুধবার চার ঘণ্টা ইডি জেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আজ কোর্টে তোলা হলে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল ব্যাঙ্কশাল আদালত।

১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে ইন্দ্রনীল সেন (PTI)
১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে ইন্দ্রনীল সেন (PTI)

আদালতে শুনানির সময় ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রীকে নিজেদের হেফাজতে নিতে ১২ দিনের আবেদন জানিয়েছিল পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে বিচারক ১০ নভেম্বর পর্যন্ত হেফাজতের আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালতে দুই পক্ষের সওয়াল-জবাবে উঠে আসে ইডির তদন্ত, কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন এবং একাধিক সন্দেহজনক সংস্থার সক্রিয়তার প্রসঙ্গ। বৃহস্পতিবার আদালতে ইন্দ্রনীল সেনকে হাজির করানো হলে প্রথমে বিচারক তদন্তকারী অফিসারের কাছ থেকে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চান। তদন্তকারী দলের এক অফিসার জানান, ২০২২ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইউনেস্কোর লোগো ব‍্যবহার করে ‘মাস আর্ট’ সংস্থা টিকিট বিক্রি করেছে। ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। ইন্দ্রনীলের স্ত্রী ছাড়াও পরিবারের অন‍্য সদস্যদের ব‍্যাঙ্ক অ‍্যাকাউন্টও এখন তদন্তাধীন। পুলিশের দাবি, দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়াতেও গরমিল রয়েছে।

অন্যদিকে, শুনানি চলাকালীন সরকারি আইনজীবী অভিজিৎ চট্টোপাধ‍্যায় আদালতে স্পষ্ট দাবি করেন, এই মামলাটি আদতে প্রতারণা এবং জালিয়াতির। ২০২৫ সালে ইউনেস্কোর সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল মাস আর্ট সংস্থার। কিন্তু ব‍্যবসায়িক বা আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে ইউনেস্কোর লোগো ব‍্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছিল তাদের তরফে। আইনজীবীর বক্তব্য, সেই নিষেধ সত্ত্বেও বাস্তবে তা-ই করা হয়। তদন্তে দেখা গিয়েছে, ২০২৫ সালে ইউনেস্কোর সঙ্গে চুক্তি হলেও ২০২২ সাল থেকে পুজোর পাসের নামে টাকা তোলা বা পাস বিক্রি করা হয়েছে। নীতি না মেনেই টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এদিকে, তদন্তকারীদের আইনজীবী সওয়াল করেন, ইন্দ্রনীলের স্ত্রী তথা ‘মাস আর্টের’ প্রধানের অ‍্যাকাউন্টে যে দিন টাকা জমা হয়েছে, ওই একই দিনে টাকা প্রাক্তন মন্ত্রীর আ‍্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্তে এমনটাই দেখা গিয়েছে। তিন জনের গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তাঁরা প্রত্যেকেই জানিয়েছেন, প্রাক্তন মন্ত্রী সরাসরি ওই দুর্নীতিতে যুক্ত। সব তথ‍্য কেস ডায়েরিতে রয়েছে। এই বক্তব্য পেশ করে পুলিশের আইনজীবী ইন্দ্রনীলের জামিনের বিরোধিতা করেন। অভিযোগকারীর আইনজীবী কোর্টে জানান, বিপুল অঙ্কের টাকা তোলা হয়েছে।

ইন্দ্রনীলের আরও দাবি, ‘মাস আর্ট’ বা এই পাস-গরমিলে নাম জড়ানো অন‍্য কোন সংস্থা (জিডি ক্রিয়েশন, থার্ড লাইন)-র সঙ্গে তিনি যুক্ত নন। দরপত্র নিয়ে গরমিলের অভিযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু দরপত্র তো লুকিয়ে কিছু করা হয়নি। এ নিয়ে সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য, যে সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেই সময়ে অভিযুক্ত মন্ত্রী ছিলেন। দরপত্র তাঁর সময়কালে ডাকা হয়েছে। তা ছাড়া ইন্দ্রনীলের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। সব পক্ষের বক্তব‍্য শুনে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রাক্তন মন্ত্রীকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks