...
...
Next Story

হাওড়ায় মৃত্যুমিছিল! ঘর থেকে বেরোনোর পথ মেলেনি, লেলিহান শিখায় শেষ দোলুই পরিবার

একই পরিবারের ৪ জনের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Published on: Dec 22, 2025, 17:12:42 IST
Advertisement

গত দুদিনে রাজ্যে পারদ অনেকটাই নেমেছে। তাই রাতের খাবার তাড়াতাড়ি সেরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।হাড়কাঁপানো ঠান্ডার রাতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল গোটা পরিবার। কিন্তু সেই ঘুমই যে চিরঘুমে পরিণত হবে, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি কেউ। মধ্যরাতে দাউদাউ করে জ্বলে উঠল ঘর। বেরনোর পথ না পেয়ে ঘরের ভেতরেই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল একই পরিবারের চার জনের। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার জয়পুরের সাউড়িয়া গ্রামে।

হাওড়ায় মৃত্যুমিছিল!
হাওড়ায় মৃত্যুমিছিল!

পুলিশ ও দমকল সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে উলুবেড়িয়ার জয়পুর থানার ঝামটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সাউড়িয়া সিংপাড়া এলাকায়। রবিবার রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ হঠাৎই ভাড়ু দোলুইয়ের মাটির ঘরে আগুন লাগে। পরিবারের সদস্যরা যখন আগুনের আঁচ টের পান, ততক্ষণে লেলিহান শিখা চতুর্দিক গ্রাস করে ফেলেছে। ঘর থেকে বেরনোর কোনও পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না তাঁরা। আর্তচিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে বালতি-গামলা করে জল দিয়ে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিন্তু কাজ হয়নি। মাটির ঘরে প্রচুর আসবাবপত্র ও ভেতরে গ্যাস সিলিন্ডার থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে কাউকেই বাইরে বের করে আনা সম্ভব হয়নি। সেই আগুনেই ঝলসে মৃত্যু হয় একই পরিবারের চার সদস্যের। মৃতরা হলেন ভাড়ু দোলুই (৭৫), দুধকুমার দোলুই (৫০), রত্না দোলুই (৪৫) এবং শম্পা দোলুই (১৫)। মৃত শম্পা নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

অন্যদিকে, খবর পেয়েই দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। শোওয়ার ঘরের ভেতর থেকেই চার জনের ঝলসে যাওয়া মৃতদেহ উদ্ধার হয়। দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে কী থেকে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন দমকল আধিকারিকরা। তদন্ত করছে পুলিশও। পাশাপাশি ওই জতুগৃহের চারপাশ ঘিরে রেখেছে পুলিশ। জানা গেছে, দুধকুমার দোলুই ইলেকট্রিকের কাজ করতেন এলাকায়। রবিবার গঙ্গাপুজো উপলক্ষে রাতে সাউড়িয়া বিশালক্ষীতলায় একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেই অনুষ্ঠান দেখতে গ্রামের বেশিরভাগ লোকই সেখানে ছিলেন। হাতে গোনা কিছু মানুষই নিজেদের বাড়িতে ছিলেন। শীতের রাত হওয়ায় সকলেই বাড়িঘরের দরজা, জানালা বন্ধ করে ঘুমিয়েছিল। ফলে কেউই প্রথমে ওই আগুন লাগার ঘটনা টের পাননি। কিছু সময় পরে ওই বাড়িটি দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে। তখনই সেই লেলিহান শিখা ও ধোঁয়া দেখতে পান সাধারণ মানুষজন। দ্রুত সেখানে ছুটে যান বাসিন্দারা, আগুন নেভানোর কাজও শুরু হয়।ওই বাড়িটি ছিটেবেড়ার দেওয়াল ও অ্যাসবেসটসের চাল ছিল। ফলে দ্রুত ওই আগুনের গ্রাসে চলে যায় বাড়িটি।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe