টলিউড থেকে রাজনীতির ময়দান— অভিনেত্রী তথা মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া এক সময় ছিলেন মমতার কাছেক মানুষ! কিন্তু ৪ঠার মে-র পর রাজ্যে পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গেই তৃণমূল থেকে দূরত্ব তৈরি করেছিলেন জুন। এরপর কাকলি ঘোষদোস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূল ছেড়ে নতুন দলে গিয়ে ভিড়েছেন জুন-সহ রচনা, দেব, সায়নী ঘোষ-সহ টলিপাড়ার তারকা সাংসদরা। ন্যাশানালিস্ট সিটিজেন পার্টির সাংসদ জুন এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে মুখোমুখি সাক্ষাৎ করলেন তিনি। সাক্ষাতের ছবি সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে মেদিনীপুরের রূপরেখা নিয়ে নিজের দীর্ঘ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন সাংসদ। তবে সোশাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক কটাক্ষ ও ট্রোলিংয়ের ঝড় সামলাতে আগেভাগেই এক বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছেন জুন— নিজের এই মেগা পোস্টের কমেন্ট বক্স সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে মুখ বন্ধ করেছেন ট্রোলারদের!

ট্রোল এড়াতে কমেন্ট বক্সে কড়া 'লক'
রাজনীতির পটপরিবর্তন কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় কটূক্তি ও ট্রোলিং এখন নিত্যদিনের ঘটনা। বিশেষ করে তৃণমূল ত্যাগের পর অমিত শাহের সাথে ছবি পোস্ট করলে অনুরাগী ও রাজনৈতিক বিরোধীদের একাংশের থেকে চরম আক্রমণের সম্ভাবনা তৈরি হতো। সেই ক্ষোভ ও বিতর্ক এড়াতেই কৌশলগতভাবে পোস্টের কমেন্ট সেকশন লিমিটেড করে রেখেছেন জুন মালিয়া, যাতে তাঁর বার্তার নীচে কোনো নেতিবাচক মন্তব্যের ঢেউ না আসে।
অমিত শাহের দিকনির্দেশনা ও মেদিনীপুরের ব্লু-প্রিন্ট
অমিত শাহের সঙ্গে নিজের এই সাক্ষাৎ নিয়ে তিনি লেখেন, ‘আজ মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত ও গর্বিত। ওঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, দেশ গড়ার প্রতি অবিচল অঙ্গীকার এবং অমূল্য দিকনির্দেশনা মেদিনীপুরের মানুষের আরও নিষ্ঠা ও সংকল্পের সঙ্গে সেবা করার জন্য আমার ইচ্ছাশক্তিকে আরও সুদৃঢ় করেছে।’
তাঁর কথায়, ‘এই সাক্ষাৎ আমাকে নতুন উদ্দীপনা ও স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে— যাতে মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রকে শিল্প, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং টেকসই উন্নয়নের এক প্রাণবন্ত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। আমার মূল লক্ষ্য হলো শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য উপযুক্ত কাজের সুযোগ তৈরি করা।’
{{/usCountry}}তাঁর কথায়, ‘এই সাক্ষাৎ আমাকে নতুন উদ্দীপনা ও স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে— যাতে মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রকে শিল্প, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং টেকসই উন্নয়নের এক প্রাণবন্ত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। আমার মূল লক্ষ্য হলো শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য উপযুক্ত কাজের সুযোগ তৈরি করা।’
{{/usCountry}}আদিবাসী উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়নে জোর: জুন মালিয়া লেখেন, ‘মেদিনীপুরের আদিবাসী সম্প্রদায়ের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বজায় রেখে শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, দক্ষতার বিকাশ ও অর্থনৈতিক সুযোগ সুনিশ্চিত করে ওনাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা আমার অন্যতম সংকল্প। এর পাশাপাশি শিক্ষা, উদ্যোগপতি তৈরি এবং আর্থিক স্বাধীনতার মাধ্যমে সমাজ ও অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে মহিলাদের ক্ষমতায়ন করতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
ফুটবল ও ক্রীড়া ক্ষেত্র: সাংসদ যোগ করেন, ‘খেলাধুলো, বিশেষ করে ফুটবল আমাদের এই অঞ্চলের ঐতিহ্যের সাথে গভীরভাবে জড়িত। ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়ন, তরুণ প্রতিভাদের পাশে দাঁড়ানো এবং স্থানীয় খেলোয়াড়দের রাজ্য ও জাতীয় স্তরে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৃণমূল স্তর থেকেই ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
নতুন অধ্যায়ের সূচনা
পোস্টের শেষে জুন মালিয়া স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন, 'আমাদের নেতৃত্ব এবং মেদিনীপুরবাসীর আশীর্বাদ নিয়ে আমরা সবাই মিলে এক শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মেদিনীপুর গড়ে তুলব— যেখানে প্রতিটি গ্রাম প্রগতির মুখ দেখবে এবং প্রতিটি স্বপ্ন পূরণ হবে। সফর তো কেবল শুরু হলো, আমরা সবাই মিলে মেদিনীপুরের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব!
কমেন্ট বক্স বন্ধ রাখলেও, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে জুনের এই সাক্ষাৎ এবং মেদিনীপুরকে নিয়ে ওঁর এই বার্তা যে বঙ্গ রাজনীতির সমীকরণে নতুন জলঘোলা শুরু করল, তা নিশ্চিত!