উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্রকে এবার একটি পর্যটন সার্কিটের মাধ্যমে জুড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। রাজ্য বাজেটে যার ঘোষণা আগেই হয়েছিল, শনিবার সেই প্রকল্পের কাজ শুরুর কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কোচবিহারের মদনমোহন মন্দির থেকে শুরু করে কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, মায়াপুর, ঠাকুরনগর, তারাপীঠ হয়ে তারকেশ্বর ধাম পর্যন্ত এক সুসংবদ্ধ ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার উত্তর কলকাতার রাধাকান্ত জিউ মন্দিরে জন্মাষ্টমী মহোৎসবে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে পুজো ও আরতি করেন তিনি। অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন পর্যটন প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং বিজেপির উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ। সেই মঞ্চ থেকেই ধর্মীয় পর্যটনকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ধর্মীয় পর্যটনের প্রসার ঘটাতে রাজ্যজুড়ে বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোচবিহারের মদনমোহন মন্দির থেকে শুরু করে কালীঘাট ও দক্ষিণেশ্বর, সেখান থেকে মায়াপুর, ঠাকুরনগর, তারাপীঠ হয়ে তারকেশ্বর পর্যন্ত তীর্থস্থানগুলিকে একই সার্কিটের মধ্যে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা একাধিক দর্শনীয় ও ধর্মীয় স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন, তেমনই রাজ্যের ধর্মীয় পর্যটন শিল্পও আরও গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তীর্থক্ষেত্রগুলিকে কেন্দ্র করে পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের উপরও জোর দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলায় পুণ্যার্থীদের উপর হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টির উদ্যোগ, জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দিরে জলাভিষেক এবং রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রাগুলিকে আর্থিক সহায়তার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি।
আগামী ১০ তারিখ কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে তারাপীঠেও সরকারের তরফে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ধর্মীয় উৎসব ও তীর্থস্থানগুলিকে ঘিরে পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলাই যে সরকারের লক্ষ্য, তাঁর বক্তব্যে সেই বার্তাই উঠে আসে।
{{/usCountry}}আগামী ১০ তারিখ কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে তারাপীঠেও সরকারের তরফে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ধর্মীয় উৎসব ও তীর্থস্থানগুলিকে ঘিরে পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলাই যে সরকারের লক্ষ্য, তাঁর বক্তব্যে সেই বার্তাই উঠে আসে।
{{/usCountry}}এদিনের বক্তব্যে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গজুড়ে যে জাগরণ তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখার দায়িত্ব সকলের। ভাষা, ধর্ম, বর্ণ কিংবা রাজনীতির নামে যাতে মানুষকে বিভাজন করা না যায়, সেই আবেদনও জানান তিনি।
সীমান্ত নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে বিএসএফকে জমি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ থেকে বেআইনি অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্ত এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মেলায় পরিণত করার লক্ষ্যেও সরকার কাজ করবে বলে ফের জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে তীর্থক্ষেত্র সার্কিট থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ধর্মীয় মেলা—ধর্মীয় পর্যটনকে রাজ্যের পর্যটন অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাই এদিনের ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে।