কয়েক মাস আগেই তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে রাজ্যসভায় গিয়েছিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। পরে সেই পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন। এ বার সেই কোয়েলকেই রাজ্যসভা উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী ঘোষণা করা হল। রবিবার কেন্দ্রীয় বিজেপির প্রকাশিত প্রার্থী তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের এই আসনের জন্য কোয়েলের নাম রয়েছে। ফলে কয়েক মাসের ব্যবধানেই তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ে বড় বদল এল।

ঘটনার শুরু চলতি বছরের গোড়ায়। ফেব্রুয়ারি মাসে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য চার জনের নাম ঘোষণা করেছিল। সেই তালিকায় চমক ছিল টলিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের নাম। তাঁর পাশাপাশি প্রার্থী করা হয়েছিল প্রাক্তন পুলিশ কর্তা রাজীব কুমার, বালিগঞ্জের বিধায়ক বাবুল সুপ্রিয় এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে। পরে কোয়েল রাজ্যসভার সদস্য হিসাবে শপথও নেন।
কিন্তু সেই যাত্রা খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। জুলাই মাসে রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেন কোয়েল। ১৬ জুলাই তিনি দিল্লিতে গিয়ে তৎকালীন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণণের হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দেন। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূলের আরও একটি রাজ্যসভা আসন শূন্য হয়ে যায়। এর আগে একই ভাবে সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকও রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। পরে তাঁরা বিজেপির প্রার্থী হিসাবে আবার উচ্চকক্ষে ফিরে যান।
কোয়েলের ইস্তফার পর থেকেই তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে ইস্তফা দেওয়ার দিনই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ সেই জল্পনাকে আরও জোরালো করে। বিজেপির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের খবরও তখন প্রকাশ্যে আসে। যদিও সেই সময় কোয়েলের তরফে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
{{/usCountry}}কোয়েলের ইস্তফার পর থেকেই তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে ইস্তফা দেওয়ার দিনই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ সেই জল্পনাকে আরও জোরালো করে। বিজেপির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের খবরও তখন প্রকাশ্যে আসে। যদিও সেই সময় কোয়েলের তরফে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
{{/usCountry}}এর মধ্যেই নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, কোয়েলের ছেড়ে যাওয়া আসনে ১৬ অক্টোবর ভোট হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ অক্টোবর। পুজোর মধ্যেই এই ভোট হওয়ায় নির্বাচনটি এমনিতেই নজর কেড়েছিল। এখন বিজেপির প্রার্থী হিসাবে কোয়েলের নাম ঘোষণায় সেই নির্বাচন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল।
রাজনৈতিক অঙ্কের দিক থেকেও বিজেপি বেশ সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে। বিধানসভায় দলের সংখ্যার জোরে এই আসনে বিজেপির জয় অনেকটাই সহজ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ফলে কোয়েলের ফের রাজ্যসভায় যাওয়া বাস্তবে সম্ভাব্য বলেই মনে করা হচ্ছে। অবশ্য আনুষ্ঠানিক ভাবে জয় নিশ্চিত হবে ভোট এবং ফল ঘোষণার পরেই।
কোয়েলের এই রাজনৈতিক যাত্রা তাই একাধিক কারণে আলোচনায়। প্রথমে তৃণমূলের মনোনয়ন, তার পর রাজ্যসভায় ইস্তফা, এবং শেষ পর্যন্ত বিজেপির প্রার্থী হওয়া। বাংলার রাজনীতিতে টলিউডের পরিচিত মুখদের নিয়ে যে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে, কোয়েলের ঘটনাও তারই আর একটি নজির।
এখন দেখার, তৃণমূলের দেওয়া রাজ্যসভার টিকিটে দিল্লির সংসদে যাওয়া কোয়েল মল্লিক বিজেপির প্রার্থী হয়ে একই কক্ষে আবার ফিরতে পারেন কি না। কয়েক মাসের এই রাজনৈতিক পালাবদল ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।