মুড়িগঙ্গার উপরে গঙ্গাসাগর সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী জানান, কাকদ্বীপের আট নম্বর লট থেকে কচুবেড়িয়াকে যুক্ত করবে গঙ্গাসাগর সেতু। নয়া সেতুর ফলে সাগরদ্বীপে ব্যবসার সুবিধা হবে। কর্মসংস্থান বাড়বে। জিনিসপত্রের দাম কমে যাবে। স্থানীয় কৃষিজাত পণ্যে কম খরচেই আনা যাবে। পর্যটনের বহর বাড়বে। দ্রুত ত্রাণ পৌঁছানো যাবে বলেও আশাপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গে বিরোধীদের খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে 'শুধু মুখে বলি না, কাজ করি।'

তবে আজ শুধু গঙ্গাসাগর সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন না মুখ্যমন্ত্রী, সাগরের উন্নয়নের জন্য আরও একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। রাজ্য সরকার সূত্রের খবর, গঙ্গাসাগর সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরে ভারত সেবাশ্রম সংঘে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। তাছাড়াও কপিল মুনি আশ্রমে পুজো দিতে পারেন। তারপর মঙ্গলবার কলকাতায় ফিরে আসার কথা আছে মুখ্যমন্ত্রীর।
গঙ্গাসাগর সেতু - একনজরে সাগরের নয়া ‘জীবন’
১) মুড়িগঙ্গা নদীর উপরে গঙ্গাসাগর সেতু তৈরি করা হচ্ছে। যা দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের সঙ্গে যুক্ত করবে সাগরদ্বীপের কচুবেড়িয়াকে। ফলে আমূল পালটে যাবে সাগরদ্বীপের যোগাযোগ ব্যবস্থা।
২) গঙ্গাসাগর সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ৪.৭৫ কিলোমিটার। সেতুতে চারটি লেন থাকবে।
৩) নবান্ন সূত্রে খবর, গঙ্গাসাগর সেতুর আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে ১,৬৭০ কোটি টাকা।
৪) রাজ্য সরকারের আশা, দু'বছরের মধ্যেই গঙ্গাসাগর সেতু তৈরি হয়ে যাবে।
৫) গঙ্গাসাগর সেতুর টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। লারসেন অ্যান্ড টুরবো পেয়েছে গঙ্গাসাগর সেতু নির্মাণের দায়িত্ব।
গঙ্গাসাগর সেতুর ফলে কী কী লাভ হবে?
সরকারি আধিকারিকদের বক্তব্য, সাগর বা গঙ্গাসাগর মেলায় যাওয়ার জন্য এখন মূলত নদীপথের উপরে নির্ভর করতে হয়। যেতে হয় ভেসেলে করে। ফলে যাতাযাতের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। গঙ্গাসাগর সেতু তৈরি হয়ে গেলে সাগরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত ভালো হয়ে যাবে। মেলার সময় সহজেই পুণ্যার্থীরা গঙ্গাসাগরে পৌঁছাতে পারবেন।
{{/usCountry}}সরকারি আধিকারিকদের বক্তব্য, সাগর বা গঙ্গাসাগর মেলায় যাওয়ার জন্য এখন মূলত নদীপথের উপরে নির্ভর করতে হয়। যেতে হয় ভেসেলে করে। ফলে যাতাযাতের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। গঙ্গাসাগর সেতু তৈরি হয়ে গেলে সাগরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত ভালো হয়ে যাবে। মেলার সময় সহজেই পুণ্যার্থীরা গঙ্গাসাগরে পৌঁছাতে পারবেন।
{{/usCountry}}শুধু তাই নয়, সাগরে সহজেই বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্য এবং শিল্পজাত পণ্য পরিবহণের কাজ সহজ হয়ে যাবে। বাড়বে পর্যটকের সংখ্যা। আবার ঘূর্ণিঝড় বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় উদ্ধারকাজে আরও গতি আসবে। সবমিলিয়ে গঙ্গাসাগর সেতুর হাত ধরে সাগরদ্বীপের আর্থিক উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হবে। মজবুত হবে স্থানীয় অর্থনীতি। পর্যটনও বাড়বে বলে সরকারি আধিকারিকরা আশাপ্রকাশ করেছেন।