Ghatal Relief Material Theft: পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল এলাকায় তৃণমূলের পার্টি অফিস ও এক কাউন্সিলরের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। অভিযোগ, বন্যার সময় সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রিপল ও বিশেষ ত্রাণ কিট মজুত করে রাখা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ঘাটাল থানার পুলিশ।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘাটাল পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মৃদুলা দত্তের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় প্রচুর ত্রিপল ও বন্যাত্রাণে ব্যবহৃত বিশেষ কিট। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয়দের পাশাপাশি বিজেপি কর্মীরাও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এর আগেও ঘাটালের তৃণমূল পার্টি অফিসে হানা দিয়ে স্থানীয়রা বস্তাবন্দি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের অভিযোগ তুলেছিলেন। অভিযোগ ছিল, ২০২১ এবং ২০২৫ সালের বন্যার সময়ের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ না করে পার্টি অফিসে মজুত রাখা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ত্রিপল, রান্নার সরঞ্জাম ও অন্যান্য সামগ্রী ছিল বলে দাবি। বিজেপির অভিযোগ, সাধারণ মানুষের নামে সরকারি ত্রাণ লুট করা হয়েছে। যদিও তৃণমূলের তরফে এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল নেতা বা পার্টি অফিস থেকে ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের অভিযোগ সামনে এসেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর এলাকাতেও এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ি থেকে বিপুল ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনাতেও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দেয়। আর এবার ঘাটালে তৃণমূল অফিস এবং কাউন্সিলরের বাড়ি থেকে বন্যার ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হল। এমনিতেই বন্যা সমস্যায় প্রতি বছর ভোগান্তি হয় ঘাটালবাসীর। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের প্রতিশ্রুতি দিয়েও বিগত তৃণমূল সরকার কথা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। আর সেই তৃণমূলেরই কাউন্সিলরের বাড়ি থেকে এভাবে ত্রিপল উদ্ধার হওয়ায় স্বভাবতই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা।