...
...
Next Story

২০১১-র পরের এসসি-এসটি-ওবিসি সার্টিফিকেট পুনর্যাচাইয়ে স্থগিতাদেশ, রাজ্যকে বড় ধাক্কা হাইকোর্টের

রাজ্য সরকারের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ২০১১ সালের পর থেকে ইস্যু হওয়া সমস্ত এসসি, এসটি ও ওবিসি জাতিগত শংসাপত্র পুনরায় যাচাই করা হবে। যাচাইয়ে কোনও শংসাপত্র ভুয়ো বা নিয়মবহির্ভূত বলে প্রমাণিত হলে তা বাতিল করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছিল।

Published on: Aug 18, 2026, 13:49:49 IST
Advertisement

পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালের পর ইস্যু হওয়া সমস্ত এসসি, এসটি এবং ওবিসি জাতিগত শংসাপত্র পুনর্যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য সরকার। গত ১৪ মে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের জারি করা সেই বিজ্ঞপ্তি ঘিরেই এবার বড় আইনি ধাক্কা খেল রাজ্য। বিজ্ঞপ্তিটির উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।

কলকাতা হাইকোর্ট
কলকাতা হাইকোর্ট

রাজ্য সরকারের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ২০১১ সালের পর থেকে ইস্যু হওয়া সমস্ত এসসি, এসটি ও ওবিসি জাতিগত শংসাপত্র পুনরায় যাচাই করা হবে। যাচাইয়ে কোনও শংসাপত্র ভুয়ো বা নিয়মবহির্ভূত বলে প্রমাণিত হলে তা বাতিল করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় জনস্বার্থ মামলা।

মামলাকারীর হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, কোনও জাতিগত শংসাপত্র ইস্যু হওয়ার পর তা বাতিল করার মতো একতরফা ক্ষমতা রাজ্য সরকারের নেই। নির্দিষ্ট আইন ও বিধি মেনে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রাজ্যের জারি করা বিজ্ঞপ্তি সেই ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে বলেও আদালতে যুক্তি দেন তিনি।

পাল্টা রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তাঁর বক্তব্য, জাতিগত শংসাপত্রের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষমতা রয়েছে। ভোটার কার্ড, আধার কার্ড-সহ বিভিন্ন সরকারি নথি পরীক্ষা করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পরিবারের সামাজিক ও জাতিগত পরিচয়ের তথ্যও যাচাই করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে সেই যাচাইয়ের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রশাসনের রয়েছে বলেই আদালতে সওয়াল করে রাজ্য।

তবে আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও পরিষ্কার করেছে। কোনও নির্দিষ্ট জাতিগত শংসাপত্র নিয়ে যদি অভিযোগ আসে, সেক্ষেত্রে জেলার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পৃথকভাবে তদন্ত ও যাচাই করতে পারবেন। অর্থাৎ, রাজ্যের বিজ্ঞপ্তি মেনে গণহারে শংসাপত্র পুনর্যাচাই আপাতত বন্ধ থাকলেও নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনিক পদক্ষেপের রাস্তা খোলা থাকছে।

জাতিগত শংসাপত্রের সঙ্গে চাকরি, শিক্ষা এবং বিভিন্ন সরকারি সুবিধা সরাসরি যুক্ত। ফলে এই শংসাপত্রের বৈধতা নিয়ে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশে আপাতত সেই প্রক্রিয়ায় লাগাম পড়ল। এখন মামলার পরবর্তী শুনানি ও চূড়ান্ত রায়ের দিকেই নজর থাকবে। রায় না হওয়া পর্যন্ত ২০১১ সালের পর ইস্যু হওয়া এসসি, এসটি ও ওবিসি শংসাপত্র নিয়ে রাজ্যের ১৪ মে-র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কোনও সামগ্রিক পুনর্যাচাই করা যাবে না।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe