Himanta slams Mamata: হেরে গিয়েও পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিজেপি নাকি ১০০টি আসন লুঠ করেছে। তাই তিনি রাজ্যপালের কাছে গিয়ে পদত্যাগ করবেন না। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা ভোটে বাংলায় এসে লাগাতার প্রচার করেছেন।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিমন্ত বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি পদত্যাগ না করেন তবে তাঁকে বরখাস্ত করে দেওয়া হবে। দেশ তাঁর খেয়ালখুশি মতো চলবে না। রাজ্যপাল নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন তারপর তাঁকে বরখাস্ত করবেন। এটা অতি সহজ বিষয়। বাংলার মানুষ অনেকদিন ওঁর শাসন সহ্য করেছেন। ওঁরা বর্ডার সিল করতে দেয়নি। আর এখন দাবি করছে ওঁদের আসন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাংলায় যে ফল হয়েছে তা অনেকদিন আগে হওয়া উচিত ছিল। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আপনাদের অনেক কিছু দিয়েছেন। আজ তাঁরা বিজেপিকে রায় দিয়েছেন। আপনারা বলছেন, পদত্যাগ করব না। যেন আপনাদের পদত্যাগের উপর নির্ভর করে সমাজ চলবে।'
উল্লেখ্য, বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ ৭ মে পর্যন্ত। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়, যার প্রাথমিক ধাপ হল বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করেন, তবে কি রাজ্যপাল তাঁকে বরখাস্ত করতে পারেন? নিয়ম ঠিক কী বলছে? সংবিধান অনুযায়ী, রাজভবন থেকে একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে রাজ্যপাল সরাসরি সরকারকে বরখাস্ত করতে পারেন। অথবা রাজ্যপাল সরাসরি বরখাস্ত না করে মুখ্যমন্ত্রীকে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকার নির্দেশ দিতে পারেন। সেখানে যদি সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয় (যা বর্তমান নির্বাচনী ফলের নিরিখে নিশ্চিত), তবে ইস্তফা দেওয়া ছাড়া আর কোনও পথ খোলা থাকবে না। এছাড়া রাজ্যপাল সংবিধানের ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ পাঠাতে পারেন। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া মানেই রাজ্যের সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে চলে যাওয়া এবং মুখ্যমন্ত্রীর পদের বিলুপ্তি ঘটা।