...
...
Next Story

দ্বিগুণ হচ্ছে বৃত্তির টাকা! ‘কন্যারত্ন’ দিবসে ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, আজই ছাত্রীদের অ্যাকাউন্টে ৪১৮ কোটি

Kanya Ratna scheme: মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ছোট ছোট মেয়েরা সকলেই ‘রত্ন’তুল্য। তারা যেন আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে মাতঙ্গিনী হাজরার মতো ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠতে পারে, তার জন্য সমস্ত রকম সহায়তা করবে সরকার।

Published on: Aug 14, 2026, 20:03:34 IST
Advertisement

Kanya Ratna scheme: বঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো কেন্দ্রের জনপ্রিয় ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ প্রকল্প। এতদিন প্রাক্তন সরকারের আমলে চালু থাকা ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণ করা হলো ‘কন্যারত্ন’ (Kanya Ratna scheme)। শুক্রবার ‘কন্যারত্ন’ দিবস (Kanya Ratna Diwas) পালনের বিশেষ অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য একগুচ্ছ বড় সুবিধা ও আর্থিক সাহায্য বৃদ্ধির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

‘কন্যারত্ন’ প্রকল্প

‘কন্যারত্ন’ দিবসে ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (PTI)
‘কন্যারত্ন’ দিবসে ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (PTI)

এদিন আলিপুরের ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ছোট ছোট মেয়েরা সকলেই ‘রত্ন’তুল্য। তারা যেন আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে মাতঙ্গিনী হাজরার মতো ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠতে পারে, তার জন্য সমস্ত রকম সহায়তা করবে সরকার। পূর্বের সরকারে স্কুলছাত্রীরা বছরে ১০০০ টাকা করে বৃত্তি পেলেও, ডবল ইঞ্জিন সরকারের (West Bengal Government) নতুন ঘোষণায় জানানো হয়েছে যে আগামী শিক্ষাবর্ষ অর্থাৎ ২০২৭ সাল থেকে এই আর্থিক সাহায্য দ্বিগুণ অর্থাৎ প্রতি বছর ২০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। তবে চলতি বছরে স্কুলছাত্রীরা আগের নিয়মেই এককালীন ১০০০ টাকা করে পাবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বিদ্যাসাগর মহাশয়ের ভাবনায় নারী শিক্ষার প্রসার, নারী শিক্ষার ক্ষমতায়ন আমরা অঙ্গীকার বদ্ধ। আমাদের ৮ মাসের বাজেটে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে মহিলাদের অগ্রাধিকার দেওয়া থেকে শুরু করে, নারী শিক্ষা, মহিলা কলেজ, উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, কোনও ছাত্রী যাতে মাঝ পথে পড়াশোনা না ছেড়ে যেতে পারেন তার জন্য সমস্ত আর্থিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও সমস্ত রাজ্যে এই কর্মসূচি থাকলেও আমাদের রাজ্য এতদিন যুক্ত হয়নি। আমরা এবার যুক্ত হলাম।’ শুভেন্দু অধিকারী মনে করিয়ে দেন, ‘উচ্চশিক্ষার জন্য তাদের ৫০ হাজার টাকা দেবে ছাত্রীদের আমরা বাজেটে অঙ্গীকার করেছি। আমরা সরকারে এসেছি মাত্র ১০০ দিন। সমস্ত পর্যালোচনা করে নতুন নতুন কী ব্যবস্থা আনা যায় চলমান রয়েছে। আমরা একটা নতুন স্কিম এনেছি স্বামী বিবেকানন্দের নামে। যারা উচ্চশিক্ষায় যাবেন তাদের জন্য অর্থ কোনও বাধা হবে না। এর জন্য ১০০ কোটি টাকা তহবিল বরাদ্দ করেছি। যে ১০০০ টাকা আমাদের কন্যারত্নরা গ্রান্ট পাচ্ছেন, আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ডবল করে দেওয়া হচ্ছে। ২০০০ টাকা করে দেব।’

প্ৰথম ধাপে ৪০০ কোটি টাকা হস্তান্তর

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পঠনপাঠন মাঝপথে বন্ধ হওয়া রুখতে এবং মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন সরকার একাধিক পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। এত দিন পশ্চিমবঙ্গে চালু না থাকলেও, এদিন থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’, ‘পালনা’ স্কিম এবং নারীদের জরুরি সহায়তায় ‘১৮১’ হেল্পলাইন সার্ভিস যুক্ত করা হল। পাশাপাশি, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’-এর মাধ্যমে এককালীন ২৫ হাজার টাকা পাওয়ার ব্যবস্থাও বহাল রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৬০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া পড়ুয়াদের জন্য 'বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ' যোজনা চালু থাকবে। তাঁর বক্তব্য, অর্থ যাতে কোনও মেধাবী পড়ুয়ার উচ্চশিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্যেই একাধিক আর্থিক সহায়তা চালু রাখা হয়েছে।

অতীতে রাজ্যের নিজস্ব বৃত্তির ওপর ভর করে মেয়েদের শিক্ষার প্রসার ঘটলেও, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে কেন্দ্রের ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ প্রকল্পের সঙ্গে বাংলা আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়ায় ছাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা আরও সুদৃঢ় হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ডবল ইঞ্জিন সরকারের এই সাহসী ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপে বাংলার পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল ও সুরক্ষিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে প্রশাসন।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe