শিয়ালদা স্টেশনের সামনে থেকে বেআইনি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। আর গতরাতে হাওড়া স্টেশনের সামনে চলল সাফাই অভিযান। পূর্ব রেলের তরফ থেকে 'সাফাই চ্যালেঞ্জ' অভিযান চালানো হচ্ছে। কোনও স্টেশনে আবর্জনা দেখলে তা ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলে রেল পদক্ষেপ করবে। সেই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রেল ডিভিশনকে ট্যাগ করতে হবে। যাত্রীদের যাতায়াতের কোনও অসুবিধা যাতে না হয়, তার জন্যে এই সাফাই অভিযান শুরু।

গতরাতে বুলডোজার চালিয়ে গোটা হাওড়া স্টেশন চত্বর পরিষ্কার করে দেওয়া হয়। এদিকে হাওড়া স্টেশন এলাকায় ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে যে সব মানুষ ডালা সাজিয়ে বসতেন, তাঁদেরও তুলে দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, ১৫০-র বেশি দোকান গতকাল ভেঙে দেয় রেল কর্তপক্ষ। এই অভিযানের সময় হাওড়া চত্বরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন একদিন আগেই রেলের তরফে তাঁদের জায়গা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য নোটিস দেওয়া হয়। তারপরই শনিবার রাতের অপারেশন। এই অভিযান নিয়ে দিলীপ ঘোষ আজ বলেন, 'রেলের জায়গা সরকারি জায়গা, সব জায়গায় জোর করে বসে রয়েছে। টিএমসির নেতা দালালি করে, গুন্ডারা সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে লাভ নিচ্ছে। সেগুলো আস্তে আস্তে সব ক্লিয়ার করে দেওয়া হবে।'
উল্লেখ্য, বিজেপি সরকারে আসতেই 'সাফাই অফিযানে' বুলডোজার ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বেশ চর্চা শুরু হয়েছে। এর আগে তিলজলায় চামড়ার কারখানায় আগুন লেগে ২ জনের মৃত্যুর পর বেআইনি নির্মাণ ভাঙা শুরু করে প্রশাসন। এবার অবশ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে রেলের তরফ থেকে। স্টেশনের বাইরে গঙ্গা ঘাট এবং বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে থাকা অবৈধ দোকানপাট বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে শুধু কলকাতা, হাওড়া নয়, শিলিগুড়িতেও বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজার নামাবে প্রশাসন। উত্তরপ্রদেশ থেকে নাকি এর জন্য ২ ডজন বুলডোজার আনানো হয়েছে।