...
...
Next Story

HS Exam Semester System: 'উচ্চমাধ্যমিকের সেমিস্টার প্রথা তুলে দেওয়া হোক', প্রথমবার পরীক্ষা হতেই চিঠি গেল

অবিলম্বে উচ্চমাধ্যমিক স্তর থেকে সেমিস্টার প্রত্যাহারের তোলা হল। এবারই সেমিস্টার প্রথায় প্রথমবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে পড়ার পর্যাপ্ত সময়ই পাননি পড়ুয়ারা। দেরিতে এসেছে বই। সবমিলিয়ে প্রস্তুতির সময় মেলেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

Published on: Feb 24, 2026, 13:39:27 IST
Advertisement

অবিলম্বে উচ্চমাধ্যমিক স্তর থেকে সেমিস্টার প্রত্যাহারের দাবি উঠল। সেই মর্মে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক সংগঠন শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের তরফে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে চিঠি দেওয়া হল। সেইসঙ্গে ওই শিক্ষক সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে, সেমিস্টার প্রথার বিকল্প হিসেবে কীভাবে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনা চলবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের (শিক্ষক-শিক্ষিকারা) সঙ্গে শলা-পরামর্শ করা হোক। সেইসঙ্গে অভিভাবক এবং পড়ুয়াদের সঙ্গেও আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে ওই সংগঠনের তরফে। যদিও বিষয়টি নিয়ে সংসদের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

অবিলম্বে উচ্চমাধ্যমিক স্তর থেকে সেমিস্টার প্রত্যাহারের তোলা হল। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে পিটিআই)
অবিলম্বে উচ্চমাধ্যমিক স্তর থেকে সেমিস্টার প্রত্যাহারের তোলা হল। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে পিটিআই)

এমনিতে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের তরফে সেই দাবি তোলা হয়েছে এমন একটা সময়, যখন সেমিস্টার প্রথায় প্রথমবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে পড়ার পর্যাপ্ত সময়ই পাননি পড়ুয়ারা। দেরিতে এসেছে বই। সবমিলিয়ে প্রস্তুতির সময় মেলেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

‘অধিক মাত্রায় টিউশন নির্ভর হয়ে পড়ছে পড়ুয়ারা’, মত শিক্ষকদের

সেই আবহে সংসদকে চিঠি দিয়ে কী কারণে সেমিস্টার প্রথা প্রত্যাহার করা উচিত, তার স্বপক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের তরফে। মঞ্চেক রাজ্য সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেছেন, ‘উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে সম্প্রতি প্রবর্তিত সেমিস্টার পদ্ধতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষের সঞ্চার হয়েছে। বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমরা লক্ষ্য করছি যে এই পদ্ধতির ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা ক্রমশ অধিক মাত্রায় টিউশন নির্ভর হয়ে পড়ছে এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত শ্রেণি পাঠে অংশগ্রহণের প্রবণতা হ্রাস পাচ্ছে। চারবার আলাদাভাবে বই কেনা এবং পরীক্ষার ফি দেওয়ার ফলে অভিভাবকদের উপর আর্থিক বোঝা বাড়ছে।’

সেইসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘সেমিস্টার-ভিত্তিক স্বল্প সময়ের মধ্যে বিস্তৃত সিলেবাস সম্পূর্ণ করা কার্যত অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। এর ফলে পাঠদানের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ছাত্র-ছাত্রীদের বিষয়ভিত্তিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাস্তরে ভিত্তি দুর্বল হলে ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তারা গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হবে - এ বিষয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এছাড়াও, এই পদ্ধতির ফলে বেসরকারিকরণের প্রবণতা আরও উৎসাহিত হচ্ছে, যা আর্থিভাবে অনগ্রসর পরিবারগুলির ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি তৈরি করছে।’

কী কী দাবি জানানো হয়েছে?

১) মঞ্চের তরফে দাবি করা হয়েছে, উচ্চমাধ্যমিক স্তরে চালু হওয়া সেমিস্টার পদ্ধতি অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক।

২) ওই সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সামগ্রিক ফলাফলের ভিত্তিতে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল নির্ধারণের পূর্ববর্তী পদ্ধতি পুনর্বহাল করা হোক।

৩) মঞ্চের তরফে দাবি করা হয়েছে, সেমিস্টার প্রথা প্রত্যাহারের পাশাপাশি প্রতিটি বিষয়ের সিলেবাস, সাহিত্যের পাঠ্য সংকলন, প্রশ্নপত্র, নম্বর বিভাজন ইত্যাদির দিকেও নজর দিতে হবে।

৪) সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মতামত গ্রহণ করে একটি গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হোক।

শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সম্পাদক বলেছেন, ‘আমরা আশা করি, ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থ ও শিক্ষার মান অক্ষুণ্ণ রাখতে বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন (সংসদ সভাপতি)।’

 
ABOUT THE AUTHOR
Ayan Das

অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe