...
...
Next Story

বিতর্কের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ হুমায়ুনের, কী কথা হল দু'জনের?

বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেন হুমায়ুন কবীর। সেখানে তিনি লেখেন, এটি সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের সঙ্গে জেলার উন্নয়নমূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

Published on: Aug 6, 2026, 09:03:41 IST
Advertisement

Humayun Kabir meets Suvendu Adhikari: এক সময় প্রকাশ্যে কড়া রাজনৈতিক তরজা। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সতর্কবার্তা। সেই আবহেই এ বার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সাক্ষাতের ছবি নিজেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে বৈঠকের উদ্দেশ্যও স্পষ্ট করেছেন তিনি। দাবি করেছেন, এই বৈঠকে মুর্শিদাবাদ জেলার উন্নয়ন এবং স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের একাধিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি, জেলার জন্য দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেন হুমায়ুন কবীর।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেন হুমায়ুন কবীর।

বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেন হুমায়ুন কবীর। সেখানে তিনি লেখেন, এটি সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের সঙ্গে জেলার উন্নয়নমূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মন দিয়ে সব প্রস্তাব শুনেছেন এবং উন্নয়নের বিষয়ে আশাব্যঞ্জক মনোভাব দেখিয়েছেন।

বৈঠকে বিশেষ করে দু’টি প্রকল্পের দাবি তুলে ধরেন নওদার বিধায়ক। প্রথমত, নওদা বিধানসভা এলাকার কৃষকদের সুবিধার জন্য একটি আধুনিক শীততাপ নিয়ন্ত্রিত হিমঘর নির্মাণের আবেদন জানান। তাঁর মতে, এলাকার বহু কৃষক সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েন। একটি আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ তৈরি হলে সেই সমস্যা অনেকটাই মিটবে এবং কৃষকেরা ন্যায্য দাম পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

দ্বিতীয় দাবি ছিল রেজিনগর বিধানসভা এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের সমস্যার সমাধান। ভাগীরথী নদীর উপর একটি নতুন সেতু নির্মাণের আবেদন জানান হুমায়ুন। তাঁর বক্তব্য, এই সেতু তৈরি হলে দুই প্রান্তের মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ হবে এবং জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও গতি পাবে।

তবে এই সাক্ষাতের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। কারণ, মাত্র কয়েক মাস আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং হুমায়ুন কবীরের মধ্যে প্রকাশ্যে বাগ্‌যুদ্ধ হয়েছিল। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী হুমায়ুনকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, 'শেষবার সতর্ক করছি, শুধরে যান। সবক শেখানোর সময় এসে গিয়েছে।' সেই মন্তব্য ঘিরে তৎকালীন রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চর্চা হয়েছিল।

এর আগে গত জুন মাসে রেজিনগরে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির একটি সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মলয় মহাজন এবং জেলা প্রশাসনকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। সেই ঘটনার পর তাঁর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উস্কানি এবং পরিকল্পিতভাবে এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের হয়।

সেই প্রেক্ষাপটে এ দিনের সাক্ষাৎ নিছক সৌজন্য, নাকি রাজনৈতিক দূরত্ব কমানোর ইঙ্গিত— তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর একমাত্র লক্ষ্য মুর্শিদাবাদের উন্নয়ন এবং এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা। আপাতত সেই দাবিগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই নজর জেলার মানুষের।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe