Gangarampur Murder Case: দক্ষিণ দিনাজপুর (Dakshin Dinajpur) জেলার গঙ্গারামপুর (Gangarampur) পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণপুর এলাকায় সাতসকালে এক হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী থাকলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্ত্রীকে গলা কেটে খুনের পর তাঁর কাটা মুণ্ডু সামনে নিয়ে ঠাকুরঘরে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় বসে থাকতে দেখা গেল স্বামীকে। ঘুম ভাঙতেই এই দৃশ্যে রীতিমত আঁতকে ওঠেন স্থানীয়রা। এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে ইতিমধ্যে হেফাজতে নিয়েছে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ (Gangarampur Police)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহতের নাম সীমা সরকার (৩৫)। প্রায় ১১ বছর আগে কালদিঘি হাসপাতালপাড়ার বাসিন্দা সীমা সরকারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন নারায়ণপুরের বাসিন্দা রিন্টু ঘোষ (৪৩)। তাঁদের দুই ছেলেও রয়েছে। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থায় (NBSTC) অস্থায়ী কন্ডাক্টর হিসেবেও কাজ করতেন রিন্টু। তবে প্রায় তিন বছর আগে সেই চাকরি চলে যায়। বাড়িতেই পুজো-পাঠ করত। মাঝেমধ্যে তান্ত্রিকের বেশও ধরত। প্রতিবেশী সূত্রে খবর, গত কিছুদিন ধরে স্ত্রীর সঙ্গে আর্থিক কারণে অশান্তি চলছিল দম্পতির মধ্যে। কিন্তু সেই বিবাদ যে একদিন এমন নারকীয় রূপ নেবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি এলাকাবাসী।
বুধবার সকালে প্রতিবেশীরা মন্দিরের দিকে গিয়ে এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখতে পান। দেখা যায়, যুবকের হাতে স্ত্রীর কাটা মুন্ডু। স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। স্থানীয়দের দেখে কাটা মুন্ডু হাতে নিয়ে এগিয়ে আসে রিন্টু। দৃশ্য দেখে ভিড় জমে যায় এবং নিমেষের মধ্যে সমগ্র এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ররা। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রিন্টু ঘোষকে গ্রেফতার করে এবং সীমার দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঠিক কোন পরিস্থিতির এমন ঘটনা ঘটানো হলো, এর নেপথ্যে কেবলই পারিবারিক কলহ নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। তন্ত্রসাধনার সঙ্গে ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কিনা, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ যাই হোক, এই নারকীয় কাণ্ডে হতবাক স্থানীয়রা। কারও ধারণা, তন্ত্রসাধনার কারণেই স্ত্রীকে বলি দিয়েছে রিন্টু। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাতেই আসল তথ্য প্রকাশ্যে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বীভৎস ঘটনাকে ঘিরে নারায়ণপুর এলাকায় এখন তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।