২০০৩ সালে কলকাতার আমেরিকান সেন্টারে হামলার ঘটনায় দুবাই থেকে ধৃত আফতাব আনসারির দোষী সাব্যস্ত হয়। আফতাবের ফাঁসির সাজাকে সেই সময় সুপ্রিম কোর্ট মুকুব করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজার নির্দেশ দেয়। কলকাতায় খাদিম কর্তার অপহরণেও এই আফতাবের নাম ছিল। সেই আফতাব বর্তমানে কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি। জেলের এক কুঠুরিতে বিশেষ নজরদারিতে এই হাইপ্রোফাইল বন্দি আফতাবকে রাখা হয়েছে। তবে জানা যাচ্ছে, আফতাবের সেই কুঠুরির মধ্যে স্মার্টফোন, আইফোন, ওয়াইফাই রাউটার সহ বেশ কিছু জিনিস উদ্ধার করেছে পুলিশ। সদ্য প্রেসিডেন্সি জেলে গত ২৩ অগস্ট দমদম সংশোধনাগারের ডিআইজি-র নেতৃত্বে একটি তল্লাশি অভিযান চলে। তার জেরেই এই সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। এরপর থেকেই একাধিক বিষয়ে সন্দেহ ও প্রশ্ন উঠছে। প্রথমেই প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল পরিমাণ সংযোগরক্ষাকারী সরঞ্জাম নজরবন্দি আফতাবের কুঠুরিতে এল কী করে! এই সরঞ্জাম ব্যবহার করে আফতাব কি নতুন কোনও নেটওয়ার্ক চালাচ্ছে! প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

রবিবার সন্ধ্যায় প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে প্রেসিডেন্সির কুঠুরিগুলিতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়েছে। রবিবার প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে তাঁর কুঠুরি থেকে মিলেছে তিনটি স্মার্টফোন, একটি আইফোন, তিনটি জিও সিম কার্ড, দু’টি জিও রাউটার, একটি ওয়াইফাই হটস্পট, দু’টি কার্ড রিডার এবং ১২৮ জিবি-র একটি পেনড্রাইভ। জেলের ওই বিশেষ কুঠুরিতে থাকা আফতাবের কাছ থেকে ৩১ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে। সেই নগদ টাকার অঙ্কে বেশ কয়েকটি ৫০০ টাকার নোটও উদ্ধার হয়েছে। এছাড়াও ওই কুঠুরি থেকে এ ছাড়া তিনটি ওটিজি, একটি হেডফোনও পাওয়া গিয়েছে। এই গোটা উদ্ধারপর্বের ঘটনায় জেলের ভিতরের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
এর আগেও, বহু সময়, জেলের ভিতরে বসে নেটওয়ার্ক চালানোর অভিযোগ ওঠে আফতাবের বিরুদ্ধে। আর এবার এই বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় সেই অভিযোগ, সন্দেহ আরও বেশি জোরদার হচ্ছে। আফতাবের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি যোগের অভিযোগ ছিলই, এবার প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি সে এই বিপুল সরঞ্জাম নিয়ে কোনও জঙ্গি নাশকতামূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিমাণ জিনিসপত্র জেলে তাকে যোগাত কে, কীভাবে তা লুকিয়ে রেখেছিল আফতাব, এই সমস্ত কিছু প্রশ্ন এখন আতস কাচের নিচে।