ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির উপর জোর বাড়াচ্ছে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সীমান্তের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় ইতিমধ্যেই ফেসিয়াল ও আইবল স্ক্যানিং প্রযুক্তিসমৃদ্ধ সিসিটিভি ক্যামেরা এবং আইএসআর (ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেইলেন্স and রিকনেইসান্স) কপ্টার ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সাইবার ডোমেইনভিত্তিক রোবট ব্যবহারের কাজও দ্রুত এগোচ্ছে।

সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরার সীমান্তবর্তী এলাকায় এই আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু হয়েছে। নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে সীমান্তে মানুষের পাশাপাশি যানবাহন বা পশুর গতিবিধিও সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা যাচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় চাকা কিংবা পায়ে চলাচল করতে সক্ষম স্বয়ংক্রিয় রোবট সীমান্তে টহল দেবে। প্রতিকূল আবহাওয়া, ঘন কুয়াশা কিংবা রাতের অন্ধকারেও তারা কাজ চালিয়ে যেতে পারবে। অন্যদিকে অত্যাধুনিক ড্রোন আকাশপথে নজরদারি চালিয়ে রিয়েল-টাইম ভিডিও ও থার্মাল ইমেজ সরবরাহ করবে।
এআই-ভিত্তিক কম্পিউটার ভিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে ড্রোনে ধরা পড়া ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে মানুষ, গাড়ি এবং পশুর মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা হবে। ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের মুখমণ্ডল বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার ব্যবস্থাও থাকবে। ইনফ্রারেড ও রাডার প্রযুক্তির সাহায্যে বৃষ্টি, কুয়াশা বা রাতের অন্ধকারেও নজরদারি চালানো সম্ভব হবে।
এছাড়া সীমান্তের মাটির নীচে ফাইবার-অপটিক সেন্সর এবং ইনফ্রারেড লেজার বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কোনও ব্যক্তি বা যানবাহনের চলাচলের ফলে কম্পন তৈরি হলেই তা কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সংকেত পাঠাবে। সন্দেহভাজন গতিবিধি শনাক্ত হলে এআই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটিকে অনুসরণ করবে এবং প্রয়োজনে একাধিক ড্রোন ও ক্যামেরা সমন্বিতভাবে লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান নির্ধারণ করবে।
{{/usCountry}}এছাড়া সীমান্তের মাটির নীচে ফাইবার-অপটিক সেন্সর এবং ইনফ্রারেড লেজার বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কোনও ব্যক্তি বা যানবাহনের চলাচলের ফলে কম্পন তৈরি হলেই তা কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সংকেত পাঠাবে। সন্দেহভাজন গতিবিধি শনাক্ত হলে এআই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটিকে অনুসরণ করবে এবং প্রয়োজনে একাধিক ড্রোন ও ক্যামেরা সমন্বিতভাবে লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান নির্ধারণ করবে।
{{/usCountry}}এই পরিস্থিতির মধ্যেই দিল্লিতে শুরু হয়েছে বিএসএফ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-র দ্বিবার্ষিক সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং ধৃত অনুপ্রবেশকারীদের প্রত্যর্পণের মতো বিষয়গুলি বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। ভারতের লক্ষ্য, শুধুমাত্র কাঁটাতারের বেড়ার উপর নির্ভর না করে স্মার্ট ফেন্সিং, এআই, ড্রোন এবং সেন্সরভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও কার্যকর করে তোলা এবং অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে বের করা।