Indian Kidnapped by Bangladeshis Update: ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও দেশে ফিরতে পারেননি জলপাইগুড়ির সীমান্তবর্তী এলাকার অপহৃত চা চাষি দীপঙ্কর গোপ। অভিযোগ, বাংলাদেশের দুষ্কৃতীদের একটি দল তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে পণবন্দি করে রেখেছে। মুক্তিপণ না দিলে দীপঙ্করকে ছাড়া হবে না বলে অপহরণকারীদের তরফে জানানো হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। পরিস্থিতিতে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে তাঁর পরিবার। এবার অপহৃত কৃষককে দ্রুত দেশে ফেরাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন পরিবারের সদস্য ও সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা।

শনিবার জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া কুকুর যান এলাকার ঘটনা। অভিযোগ, সেখানে চাষের কাজে যাওয়ার সময় দীপঙ্কর গোপ নামে এক চা চাষিকে বাংলাদেশের দুষ্কৃতীদের একটি দল অপহরণ করে নিয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, এর কিছুদিন আগে সীমান্তে চোরাচালানের চেষ্টা রুখেছিল বিএসএফ। সেই ঘটনায় এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। তারই বদলা নিতে দীপঙ্করকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ঘটনার পর থেকেই উদ্বেগে রয়েছে দীপঙ্করের পরিবার। রবিবার সন্ধ্যায় চাউল হাটি বিএসএফ ক্যাম্পের সামনে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভের মুখে পড়েন রাজগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক দীনেশ সরকারও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রাজগঞ্জ ও কোতোয়ালি থানার পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে পদক্ষেপ করে দীপঙ্করকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।
এদিকে, স্বামীর ফেরার আশায় সীমান্তে অপেক্ষা করছিলেন দীপঙ্করের স্ত্রী মহামায়া গোপ। শ্বশুর এবং দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ২৮ নম্বর সীমান্ত গেটের কাছে পৌঁছেছিলেন তিনি। আশা ছিল, বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের পর তাঁর স্বামীকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু বৈঠক শেষ হওয়ার পর বিএসএফ কর্তারা খালি হাতে ফিরে আসেন। তখনই পরিবার জানতে পারে, মুক্তিপণ না পাওয়া পর্যন্ত দীপঙ্করকে ছাড়া হবে না বলে দাবি করেছে অপহরণকারীরা। এই খবর শুনে ঘটনাস্থলেই সংজ্ঞা হারান মহামায়া।
অন্যদিকে, দীপঙ্করকে ফেরানোর ক্ষেত্রে একটি জটিল শর্ত সামনে এসেছে। অভিযোগ, গত ৬ আগস্ট চাউল হাটি সীমান্তে গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত না দিলে অপহৃত কৃষককে ছাড়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে শনিবার থেকে বিএসএফ এবং বিজিবির আধিকারিকদের মধ্যে একাধিক দফায় বৈঠক হয়েছে। কিন্তু এখনও কোনও সমাধান সূত্র মেলেনি।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, দীপঙ্করকে ফেরানোর ক্ষেত্রে একটি জটিল শর্ত সামনে এসেছে। অভিযোগ, গত ৬ আগস্ট চাউল হাটি সীমান্তে গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত না দিলে অপহৃত কৃষককে ছাড়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে শনিবার থেকে বিএসএফ এবং বিজিবির আধিকারিকদের মধ্যে একাধিক দফায় বৈঠক হয়েছে। কিন্তু এখনও কোনও সমাধান সূত্র মেলেনি।
{{/usCountry}}ঘটনায় বিএসএফের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সীমান্তবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, আগে চাষের জমির কাছাকাছি জিরো লাইন বরাবর নিয়মিত বিএসএফের টহল থাকত। বর্তমানে সেই টহল অনেকটাই কমে যাওয়ায় বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। ফলে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে ওই এলাকায় বিএসএফের টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
একইসঙ্গে তাঁদের দাবি, প্রয়োজন হলে আটক বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত দিয়েও দীপঙ্করকে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। স্থানীয়দের বক্তব্য, একজন ভারতীয় নাগরিককে সীমান্তের ওপারে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ স্তরে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে বিষয়টি পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
রাজগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক দীনেশ সরকার জানিয়েছেন, সীমান্তবাসীদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। স্বরাষ্ট্র দফতরের কাছে বিষয়টি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। এখন পরিবারের একটাই অপেক্ষা—কবে নিরাপদে বাড়ি ফিরবেন দীপঙ্কর। সীমান্তে চলতে থাকা আলোচনা এবং প্রশাসনিক তৎপরতার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে তাঁর পরিবার ও গোটা চাউল হাটি এলাকা।