দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শোয়ের পাস বিক্রি ঘিরে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন তথ্য সামনে আসছে। এ বার পুলিশের সামনেই বিবাদে জড়ালেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন। ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে পুজোর ভিআইপি পাস বিক্রি এবং বিপুল টাকা তোলার অভিযোগে দু’জনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। সেই জেরার সময়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্ক শুরু হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। মধুছন্দার দাবি, এ ভাবে টাকা তুলতে তিনি ইন্দ্রনীলকে আগেই নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর কথা শোনেননি প্রাক্তন মন্ত্রী। অন্য দিকে, পুলিশের দাবি, সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে সবই জানতেন মধুছন্দা। ফলে তাঁকে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন তদন্তকারীরা।
মুখোমুখি জেরায় কী উঠে এল?

লালবাজার সূত্রে খবর, ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দাকে ইতিমধ্যেই দু’দিন ধরে জেরা করেছেন গোয়েন্দারা। সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীকে মুখোমুখি বসিয়ে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন এবং মাস আর্ট সংস্থার কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। পুলিশের দাবি, মধুছন্দা ওই সংস্থার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ফলে সংস্থার মাধ্যমে পুজোর পাস বিক্রি এবং টাকা সংগ্রহের বিষয়ে তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মধুছন্দার বক্তব্য, তিনি ইন্দ্রনীলকে এ ভাবে টাকা তুলতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু ইন্দ্রনীল সেই পরামর্শ মানেননি। এই বক্তব্য ঘিরেই দু’জনের মধ্যে পুলিশের সামনেই তর্কাতর্কি শুরু হয় বলে খবর। তদন্তকারীদের প্রশ্নের মুখে আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মেয়েকেও তলব, হাজিরা এড়ালেন আভেরি
এ দিকে, ইন্দ্রনীলের মেয়ে আভেরি সেনকেও তদন্তের আওতায় আনতে চাইছে লালবাজার। মঙ্গলবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি হাজিরা দেননি। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পুলিশকে আসতে পারবেন না বলে জানান। বুধবার দুপুরে ফের তাঁকে লালবাজারে হাজির হতে বলা হয়েছে। দ্বিতীয়বারও হাজিরা এড়ালে তাঁকে আবার নোটিস পাঠানো হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, আভেরির সঙ্গে এই আর্থিক লেনদেনের যোগ থাকতে পারে। তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের টাকা জমা পড়ার তথ্যও সামনে এসেছে। সেই টাকার উৎস এবং লেনদেনের উদ্দেশ্য জানতে চান গোয়েন্দারা।
নতুন আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার ভাবনা
{{/usCountry}}তদন্তকারীদের সন্দেহ, আভেরির সঙ্গে এই আর্থিক লেনদেনের যোগ থাকতে পারে। তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের টাকা জমা পড়ার তথ্যও সামনে এসেছে। সেই টাকার উৎস এবং লেনদেনের উদ্দেশ্য জানতে চান গোয়েন্দারা।
নতুন আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার ভাবনা
{{/usCountry}}ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে এ বার আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবছে কলকাতা পুলিশ। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘মেনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার’ বা এমপিও আইনের ২ এবং ৯ নম্বর ধারা প্রয়োগের জন্য ব্যাঙ্কশাল আদালতে আবেদন করতে পারে লালবাজার। পুলিশের অভিযোগ, ইন্দ্রনীল বিপুল অঙ্কের টাকার উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। গান গেয়ে ওই টাকা উপার্জন করেছেন বলে দাবি করলেও তার পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ মেলেনি বলে তদন্তকারীদের বক্তব্য। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন আইন প্রয়োগের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
শুধু পুজোর পাস বিক্রিই নয়, পর্যটন দফতরের বিভিন্ন টেন্ডার নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তিনটি সংস্থার লেনদেন পুলিশের নজরে রয়েছে। এই সংক্রান্ত নথি চেয়ে পর্যটন দফতরের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
তদন্তের পরিধি বাড়াতে সিটের সদস্যসংখ্যাও পাঁচ থেকে বাড়িয়ে ন’জন করা হয়েছে। জালিয়াতি দমন শাখা এবং ব্যাঙ্ক জালিয়াতি দমন শাখার আধিকারিকদেরও দলে যুক্ত করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ইন্দ্রনীলের স্ত্রী-সহ মোট ন’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন গোয়েন্দারা। তাঁদের মধ্যে ইন্দ্রনীলের সংস্থার তিন কর্মীও রয়েছেন।
পাশাপাশি ইউনেস্কোর লোগো ব্যবহারের অনুমতি ছিল কি না, তা জানতে দিল্লির দফতরে নতুন করে চিঠি পাঠিয়েছে কলকাতা পুলিশ। এখনও সেই চিঠির উত্তর আসেনি। ফলে পুজোর পাস বিক্রির তদন্তে এখন নজরে ইন্দ্রনীলের পরিবারের আর্থিক লেনদেন, মাস আর্টের ভূমিকা এবং পর্যটন দফতরের টেন্ডার সংক্রান্ত নথি।